ডা. মো. আরমান হোসেন রনি

ডা. মো. আরমান হোসেন রনি

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।


২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৫:৪৯ পিএম

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি: ডায়াবেটিস রোগীদের অন্ধত্বের কারণ

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি: ডায়াবেটিস রোগীদের অন্ধত্বের কারণ
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রোগ। ছবি সংগৃহীত

বর্তমানে অনেকেরই ডায়াবেটিসজনিত অন্ধত্ব দেখা দিচ্ছে। এই রোগে আক্রান্তদের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগ। যার মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনাই শতকরা ২৫.১ ভাগ। ডায়াবেটিস রোগীদের অন্ধত্বের প্রধান কারণ হলো এই ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি।

রেটিনা হল চোখের পেছনে অবস্থিত আলো সংবেদনশীল টিস্যু যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।এ রোগে সাধারণত দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সঠিক চিকিৎসা না করা হলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে। 

যাদের ঝুঁকি বেশি

১. দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত: ৩০ বছরের কম বয়সী ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ১০ বছর পর ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগ। কিন্তু ৩০ বছরের অধিক বয়সী ডায়াবেটিস রোগীদের রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, যা শতকরা ৯০ ভাগ। তবে ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার ৫ বছরের মধ্যে অথবা বয়ঃসন্ধিকালের পূর্বে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

২. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস: দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের এইচবিএ-১ এর মান ৬-৭% এর মধ্যে রাখা বাঞ্ছনীয়।

৩. গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থার সাথেও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে রেটিনোপ্যাথি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। 

৪. অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ: সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ বেশি থাকে। সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ ১৪০/৮০ মিলিমিটার পারদের নিচে থাকা বাঞ্ছনীয়।

৫. আরও যারা ঝুঁকিতে: কিডনি রোগে আক্রান্ত, ধূমপায়ী, রক্তে চর্বি বেশি, স্থূলতা, রক্তশূন্যতা এবং ছানি অপারেশন হলে রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রতিরোধে যা করণীয়

- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- ধূমপান পরিহার করা। 
- রক্তে চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা । 
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- সুষম খাবার গ্রহণ। 
- নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়াম করা।
- দুশ্চিন্তা না করা।
- নিয়মিত ওষুধ সেবন।

যা মনে রাখতে হবে

- ডায়াবেটিসের স্থায়িত্বকাল রেটিনোপ্যাথির তীব্রতা ও চোখের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। 
- সময়মতো ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করতে পারলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা কমে যায়।
- ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সী সব ডায়াবেটিক রোগী, যাদের এক বছরের বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিস আছে এবং ৩০ বছরের বেশি বয়সের ডায়াবেটিক রোগীদের বছরে অন্তত একবার চক্ষু বিশেষজ্ঞের দ্বারা চোখের রেটিনা পরীক্ষা করা জরুরি।

এনএএন/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত