১২ জুলাই, ২০২৪ ০৯:০০ পিএম

রামেবির ফাইনাল প্রফে ফেইলের শীর্ষে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল

রামেবির ফাইনাল প্রফে ফেইলের শীর্ষে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে ফেইলের (অকৃতকার্য) শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ (এমএআরএমসি)। ১৬৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।

বুধবার (১০ জুলাই) রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, রামেবির অধিভুক্ত বড় মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পরই এমএআরএমসিতে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। স্বনামধন্য এই মেডিকেল থেকে এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় নভেম্বর-২০২৩ অংশগ্রহণ করেন মোট ১৬৭ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১০২ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছেন ৬৫ জন শিক্ষার্থী।

দিনাজপুর মেডিকেলের অকৃতকার্য ৬৫ জনের মধ্যে মেডিসিনে ৩৭ জন, সার্জারিতে ৩৬ জন, গাইনিতে ২৮ জন শিক্ষার্থী। মেডিসিনসহ সার্জারিতে ১২ জন শিক্ষার্থী, মেডিসিনসহ গাইনিতে পাঁচজন শিক্ষার্থী। দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ জন। আর মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি তিন বিষয়েই অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ছয়জন।

এমএআরএমসির পাসের হার

বিগত প্রকাশিত আরও তিনটি প্রফের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশানাল পরীক্ষায় পাসের ৮১ দশমিক ২ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রফে ৭২ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ফার্স্ট প্রফেশনাল পরীক্ষায় ৬৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর সর্বশেষ গত ১০ জুলাই এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার পাসের হার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। এটি এমবিবিএস প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় রামেবিতে অকৃতকার্য সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী এম আব্দুর রহিম মেডিকেলের।

অন্যান্য মেডিকেলের ফলাফল

রামেবির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ২৩৩ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ২০৭, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ জন। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ২২৬ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ১৭৪ জন, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২ জন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ১৫৬ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ১৩৮, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ১৪৫ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৯৯জন , এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন। পাবনা মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৬২ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৪২, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ জন।

যশোর মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৭১ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৪৮ জন, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩ জন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৬৩ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৪৬, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ জন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৫৬ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৪৬, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ জন।

সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৬৪ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৪৯, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। নওগাঁ মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৩৮ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ২৭ জন, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ জন। নীলফামারি মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৪৪ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৩৩ জন, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ জন। মাগুরা মেডিকেল কলেজ থেকে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৪৭ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৩৬ জন, এর মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ জন।

যা বলছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাইনাল প্রফে অংশগ্রহণ করা এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি অনেক ভালো পরীক্ষা দিয়েছি, আশা করেছিলাম পাস আসবে। নিয়মিত ক্লাস ওয়ার্ডও করেছি। তারপরও কেন ফেইল আসলো, বুঝতে পারছি না।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছি। কোনো কিছুই ভালো লাগে না। কত সুন্দর পরীক্ষা দিয়েছি, ফলাফল এমন আসবে ভাবিনি। আশায় ছিলাম, এবার অন্তত পাস করবো। স্যারদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এমএআরএমসির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এএফএম নুরুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভালো করেনি, তাই ফেইল করেছে।’

শিক্ষার্থীদেরকে গাইডলাইন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক সংখ্যা খুবই কম। তাই নার্সিং শিক্ষার্থীদের কম হবে। শিক্ষার্থী অনুসারে শিক্ষক কম। অনেক শিক্ষকের পদখালি। এটাই হচ্ছে আমাদের মূল সমস্যা। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে বারবার জানাচ্ছি, আমাদেরকে শিক্ষক দেন। ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য যে শিক্ষক ছিল, সেই শিক্ষক নিয়ে ২০০ জন শিক্ষার্থী এখন ভর্তি করি। আমাদের শিক্ষক সমস্যাটাই প্রধান।’

এসএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত