০৬ মে, ২০২৪ ০৮:৪৯ পিএম
ডক্টরস ফর ইকোসলিউশনের সেমিনার 

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে বৈজ্ঞানিক শিল্পায়ন ও সবুজায়নে গুরুত্বারোপ

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে বৈজ্ঞানিক শিল্পায়ন ও সবুজায়নে গুরুত্বারোপ
সেমিনার ও আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ। ছবি: আব্দুল লতিফ সাদ্দাম

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৬ মে) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুল সালাম হলে ডক্টরস ফর ইকোসলিউশনের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আব্দুর রব। তাপদাহের নানা কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাপদাহ একটি পারিপার্শ্বিক প্রভাবের ফল। আমাদের ওপর শব্দ, আলো, তাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ুর চাপ, বায়ুর গতি, পৃথিবী গরম কিংবা ঠাণ্ডা হওয়া—এসবই বৃক্ষ ও প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলছে। আর সকল প্রাণী প্রভাব ফেলছে মানুষের ওপর।’

পৃথিবী উষ্ণ হওয়া একটি প্রাকৃতিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটা বহু আগে থেকেই হচ্ছে। দেশে-বিদেশে এ নিয়ে বহু সেমিনার হয়েছে। তবে এ নিয়ে ভূ-গোলবিদরা দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ বলছেন, গ্লোবার ওয়ার্মিং হচ্ছে, কেউ বলছেন হচ্ছে না। উন্নত বিশ্ব শিল্পায়ন করছে, সুফল ভোগ করছে আশি ভাগ। আর বিশ ভাগ শিল্পায়ন করছে পৃথিবীর আশিভাগ মানুষ। শিল্পায়নসহ মনুষ্য সৃষ্ট নানা কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

এ থেকে সুরক্ষার পেতে করণীয় উল্লেখ করেন ড. আব্দুর রব। বলেন, দূষণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ পানি, বাতাস ও মাটি দূষণের ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক উপায়ে শিল্পায়ন ও নগরায়ন করলে এ দূষণ কমানো সম্ভব হবে। এজন্য সবুজায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে হিট স্ট্রোকের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, মানবদেহে স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আল্লাহ তা’লা আমাদের শরীরকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে, আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শরীর এটা মানিয়ে নিতে পারে। তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও শরীরের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রিই থাকে। অন্যদিকে এটা .৪ ডিগ্রি, .৫ ডিগ্রি হয়ে হলেও শরীরের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রিই থাকবে। তবে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার যেসব ব্যবস্থাপনা রয়েছে, এগুলো অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে যায়। তখনই আমাদের হিট সংশ্লিষ্ট নানা রোগ দেখা দেয়।

কারা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন ডা. মেহেদী হাসান। বলেন, শিশু ও বৃদ্ধ, যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কাশি-শ্বাস কষ্টের রোগী, যারা পানি কম পান করেন, যারা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করেন, যেসব হার্টের রোগী নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ এবং সর্দির এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করেন এবং ডায়াবেটিস রোগী হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

হিটওয়েব কী?

ডা. মেহেদী হাসান বলেন, ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রা তিন দিন চলমান থাকলে তাকে হিট ওয়েব বলে।

এ সময় ঝুঁকি এড়াতে অধিক গরমের পরিবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন অনুষ্ঠানের অন্যতম প্যানেল অব এক্সপার্ট ডা. শোয়েব মোমেন মজুমদার। তিনি বলেন, দূষিত নগরীর মধ্যে ঢাকা শহর প্রায় সব সময় ১, ২, ৩ নম্বরে থাকে। গত ৪/৫ বছর আগে দিল্লি সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় চলে আসে। তখন দিল্লিতে গাছপালা কম ছিল। ফলে তাপমাত্রা বেশি ছিল। কিন্তু ওরা পুরো শহরটাকে গাছ দিয়ে ছেয়ে ফেলেন। দুই বছরের ব্যবধানে তাদের শহরের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নগর কর্তৃপক্ষ যদি বৃক্ষরোপণের ব্যাপারে উদ্যোগী হন, যেটা বর্ষা বা নির্দিষ্টি মৌসুমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাহলে ভালো ফল আসবে।

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত