এমবিবিএসে উপজাতি কোটায় ৭ বাঙালি শিক্ষার্থী, যা জানালো অধিদপ্তর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০২৩-২৪ সেশনের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি)। এতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত কোটায় ৩৯ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সাতজন শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী না হয়েও এ কোটায় ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আজ বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ফর্ম পূরণের সময় কোটার অপশনে অনেকে ভুলবশত আদিবাসী অপশন পূরণ করে ফেলেছে। ফলাফল প্রস্তুতের সময় শিক্ষার্থীরা যেভাবে ফর্ম পূরণ করে সেভাবেই ফলও তৈরি করা হয়। আদিবাসী নন, এমন ৭ জন শিক্ষার্থী আদিবাসী কোটায় চান্স পেয়েছেন বলে জেনেছি। আমরা ইতোমেধ্যই তাদেরকে চিহ্নিত করেছি।’
তিনি আরও জানান, ‘অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচজন স্বীকার করেছে তারা আসলে আদিবাসী নন, ভুলবশত আদিবাসী কোটায় টিক চিহ্ন দিয়েছিল। বাকিদেরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দকে জানিয়ে দিয়েছি এসব শিক্ষার্থীকে যেন ভর্তি করা না হয়। ভুল করে হোক আর যেভাবে হোক সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আমাদের কাছে আসতে বলেছি। আমরা তাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবো। আর আদিবাসী কোটার এসব সিট সিরিয়াল অনুযায়ী পরবর্তীতে পূরণ করা হবে।’
উপজাতি কোটায় নির্বাচিত হওয়া বাঙ্গালী শিক্ষার্থীরা হলেন- সাদিয়া আক্তার রাইসা (কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ), সায়মা আলম (সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ), তহুরা তানজিনা নিশাত (শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ), তাসনুবা অস্মিতা কাহন (শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, গোপালগঞ্জ), আরফা জান্নাত সামিয়া (শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, টাঙ্গাইল), শাহরিয়ার হাসান শিফান (যশোর মেডিকেল কলেজ), এবং বৈশাখী দে নদী (শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, জামালপুর)।
এর আগে, ২০১৭ সালে সরকারি মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উপজাতি কোটায় চারজন বাঙালি শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছিল। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তি বাতিল করে এবং সিরিয়াল অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি শিক্ষার্থীদের বেছে নেয়।
প্রসঙ্গত, এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছেন ৪৯ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভর্তি পরীক্ষায় ছেলেদের পাসের হার ৪০.৯৮% (২০ হাজার ৪৫৭) এবং মেয়েদের পাসের হার ৫৯.০২% (২৯ হাজার ৪৬৬)।
মেডিকেলে সুযোগপ্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েরা এগিয়ে। সরকারি মেডিকেল কলেজে সুযোগপ্রাপ্ত মেয়েদের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৮ জন (৫৬.৫৪ শতাংশ)। ছেলের সংখ্যা ২ হাজার ৩১২ জন (৪৩. ২৬ শতাংশ)।
সরকারি মেডিকেল কলেজের ৫ হাজার ৩৮০ টি আসনের নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৩৪৭ জন এবং গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ১হাজার ৩ জন। ২০২২- ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজ/ডেন্টাল কলেজ/ইউনিটে ভর্তিরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবছর ভর্তি পরীক্ষায় সফল শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জন।
মেধা কোটার ৫ হাজার ৭২টি আসনের মধ্যে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৯৪ জন (৪৩.২৬%) এবং মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৭৮ জন (৫৬.৭৪%)। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মোট আসন সংখ্যার ৫% হিসাবে ২৬৯ জন শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিদের জন্য সংরক্ষিত কোটায় ৩৯ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
এসএস/এএনএম
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৬ জুন, ২০২৫
-
১৭ মে, ২০২৫
-
২৪ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
জাতীয় মেধায় দ্বিতীয়
ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু ও মায়ের ইচ্ছাতে মেডিকেলে সানজিদ সিরাজ
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
কাগজপত্র যাচাই ২৯ জানুয়ারি
কোটায় সুযোগ পাওয়া ১৯৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়