২১ জানুয়ারী, ২০২৪ ০১:০৮ পিএম

জৈন্তাপুরে হাসপাতাল ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: মামলা দায়ের, তদন্তে কমিটি

জৈন্তাপুরে হাসপাতাল ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: মামলা দায়ের, তদন্তে কমিটি
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সালাহউদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় মামলাটি করেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিলেটের জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার বন্ধুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর এবং গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. মো. সালাহউদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় মামলাটি করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ রোববার (২১ জানুয়ারি) সকালে মেডিভয়েসকে তিনি জানান, অজ্ঞাত ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল হাসপাতাল পরিদর্শনে পথে রয়েছেন।

ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ যেভাবে

গত ১৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুরে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে চার বন্ধুর মৃত্যু হয়। জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পরে তাদের চিকিৎসা ঠিকমতো হয়নি অভিযোগ তুলে হাসপাতাল কমপ্লেক্স, ইমার্জেন্সি রুম, চিকিৎসক কোয়ার্টার, নার্সিং কোয়ার্টার, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উত্তেজিত জনতা।

এ সময় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

জৈন্তাপুরের ইউএইচএফপিও সালাহউদ্দিন বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের সময় হাসপাতালে কর্বত্যরত চিকিৎসক হিল্লোল সাহা এবং স্টাফ আব্দুস সাত্তারকে মারধর করা হয়। এ সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। প্রথমে দুজনকে নিয়ে আসা হয়েছিল; এর ১৫ মিনিট পর আরও দুজনকে আনা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় তাদের ইসিজিও করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা নিহতদের সিলেটে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা চান; কিন্তু চালক না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে তারা উত্তেজিত হয়ে প্রথমে হাসপাতালের নিচতলা ও স্টাফ কোয়ার্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ক্ষতি কোটি টাকা

এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি, হামলায় অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর ও একটি সরকারি জিপে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকায় হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তবে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসায় অসহযোগিতা করা হয়েছে। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি দেওয়া হয়নি। এ সময় উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুর করে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার বাংলাবাজার দুই নম্বর লক্ষ্মীপুর বায়তুল জামে মসজিদের সামনে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। এতে চার বন্ধু মারা যান। তারা হলেন—নিহাল পাল (২৬), জুবায়ের আহমদ সাব্বির (২৬), মেহেদী হাসান তামাল (২৫) ও সুমন আহমদ (২৫)।

তারা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। 

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নিহাল পালের বাবা বাদী হয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক