মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা: ইমপ্রুভমেন্ট পদ্ধতি পুনর্বহাল চান ভর্তিচ্ছুরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় খারাপ করা বিষয়ে ইম্প্রুভ (মানোন্নয়ন) দিয়ে আগামী বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ চেয়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাদের দাবি, অসুস্থতাসহ নানা দুর্যোগের কারণে কাঙিক্ষত প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল করা যায়নি। ফলে পয়েন্টে পিছিয়ে যাওয়ায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় তাদের পক্ষে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় বাতিল করা ইমপ্রুভমেন্ট পদ্ধতির পুনর্বহাল চান তারা, যাতে আগামীতে এইচএসসিতে ইম্প্রুভ দিয়ে পরের বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
তবে মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্যই বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলেছে, গৃহিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা সম্ভব নয়।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পূর্বের নীতি অনুযায়ী, সেকেন্ড টাইমারদের মতো ইমপ্রুভমেন্ট দেওয়া শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদের সে সুযোগ বাতিল করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইম্প্রুভমেন্টে শিক্ষার্থীদের সুযোগের বিষয়টি বিবেচনার কথা ছিল। তবে এ বছরের নীতিমালায় সংযোজিত সিদ্ধান্তের কারণে এটি বাতিল হয়ে গেল।
এতে চরম হতাশা ব্যক্ত করেন ইম্প্রুভমেন্টের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সেকেন্ড টাইমারদের সুযোগ ও মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন সুযোগ বহাল থাকলেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মিরা খানম মেডিভয়েসকে বলেন, প্রতিবছরই অসংখ্য শিক্ষার্থী নানাবিধ কারণে এইচএসসি পরীক্ষা বা কিছু কিছু বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। এমনকি ভালো এবং নিয়মিত ছাত্র হওয়ার পরও দুর্ভাগ্যবশত ফলাফল খারাপ হয়ে যায়। এসব শিক্ষার্থী তখন দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে অনেকের স্বপ্ন থাকে চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নিয়মের কারণে ইমপ্রুভ দেওয়া শিক্ষার্থীরা চলতি বছর থেকে আর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে না।
বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী, সেকেন্ড টাইমাররা দুইবার পরীক্ষায় বসতে পারেন। বিপরীতে ইম্প্রুভ দেওয়া শিক্ষার্থীরা একবারই সুযোগ পাবেন।
মিরা খানমের প্রশ্ন, যদি কাউকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া না হয়, তাহলে সেকেন্ড টাইমাররা কেন পরীক্ষা দিতে পারবেন, আবার মেডিকেলে অধ্যয়নরতরা কীভাবে পরীক্ষায় বসতে পারছেন?’
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী রাফিয়া সুলতানা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি এবং বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই এ স্বপ্ন আরো দৃঢ় হয়। প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষায় আমি ভালো ফলাফল করেছি। এইচএসসির সময় চরম অসুস্থতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। এ কারণে পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় ফলাফল কাঙিক্ষত হয়নি। ইমপ্রুভমেন্ট পদ্ধতি চালু করার মাধ্যমে আমাকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাং অংশগ্রহণের সুযোগ চাই।’
ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে অধ্যয়নরত যেসব শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে, তাদের ১০ নম্বর কেটে নেওয়া হবে। আর কোথাও ভর্তি নেই, এমন শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় ৫ নম্বর কাটা যাবে।
একই রকম শর্তে হলেও ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ চান ভর্তিচ্ছুরা। রাজবাড়ীর শিক্ষার্থী মিরা খানম বলেন, ‘এইচএসসিতে ইম্প্রুভ দিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও আমরা কিন্তু সেকেন্ড টাইমার হিসেবে গণ্য হবো। সুতরাং প্রয়োজনে তাদের মতো মার্ক কেটে নিয়ে হলেও পরীক্ষায় বসার সুযোগ চাই।’
ইচ্ছাকৃত নয়, বরং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ইম্প্রুভ দিতে চাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফাতেমা তুজ জহুরা। তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নিয়মিতদের অধিকতর সুযোগ দিতে ইম্প্রুভ বাতিল করা হলেও মাইগ্রেশনের সুযোগ রাখা হয়েছে, সুযোগ পাচ্ছেন সেকেন্ড টাইমাররাও। তাহলে আমরা কেন বঞ্চিত হবো?’
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল আজ শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জড়িত সকল অংশীজনের সমন্বিত সিদ্ধান্তে ইমপ্রুভমেন্টের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এটি পুনর্বহালের সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারও না কারও কোনো না কোনোভাবে অসুবিধা তো হবেই। কেউ কেউ বলেছেন, বায়োলজিতে নম্বর খারাপ এসেছে, এটা যদি ৩.৫ হয়, তাহলে সুবিধা হতো ...। কেউ বলেছে, অসুস্থ ছিল। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত সমস্যা তো এখানে আনলে আমরা সমাধান করে দিতে পারবো না। এটা সবার জন্যই সমান।’
গত ২৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দেশি শিক্ষার্থীরা পহেলা জানুয়ারি ও বিদেশি শিক্ষার্থীরা ৪ জানুয়ারি থেকে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ১১ জানুয়ারি। আর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।
এএনএম/
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৬ জুন, ২০২৫
-
১৭ মে, ২০২৫
-
২৪ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
জাতীয় মেধায় দ্বিতীয়
ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু ও মায়ের ইচ্ছাতে মেডিকেলে সানজিদ সিরাজ
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
কাগজপত্র যাচাই ২৯ জানুয়ারি
কোটায় সুযোগ পাওয়া ১৯৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়