৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৯:৫২ এএম

ফিরে দেখা ২০২৩: স্মৃতির ডায়েরিতে যেসব আরোগ্য শিল্পী

ফিরে দেখা ২০২৩: স্মৃতির ডায়েরিতে যেসব আরোগ্য শিল্পী
জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, জনপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান (ছবিতে বাম দিক থেকে)

সাহেদুজ্জামান সাকিব: পাওয়া না পাওয়া, সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে ধীরে ধীরে রচিত হয় পুরো একটি বছরের গল্প। গেল বছর স্বাস্থ্যে নতুন নতুন অর্জনের পাশাপাশি বিদায় নেন অর্জনের অনেক নায়ক। ২০২৩ সালে দেশবরেণ্য এমনই কয়েকজন আরোগ্য শিল্পীকে হারিয়েছি আমরা, দেশ ও জাতির কল্যাণে যাদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেও নিজ কর্মগুণে স্মৃতির পাতায় বেঁচে থাকবেন আজীবন।

স্বাভাবিকভাবে, দুর্ঘটনায় ও আত্মহত্যার পাশাপাশি দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক চিকিৎসক। মৃত্যু যেভাবেই হোক দেশের গুরুত্বপূর্ণ এসব মানবসম্পদ হারানো রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। স্মৃতির ডায়েরিতে স্থান পাওয়া এসব আরোগ্য শিল্পীর প্রতি মেডিভয়েসের অতল শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা। আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন।

ডিসেম্বরে বিদায় জাতীয় অধ্যাপক ডা. আব্দুল মালিকসহ দশ চিকিৎসক

গেল ৫ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক। বার্ধক্যজনিত কারণে নিজের প্রতিষ্ঠিত হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। চিকিৎসা খাতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ অধ্যাপক ডা. আব্দুল মালিক ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। তিনি ২০০৬ সালে জাতীয় অধ্যাপক হিসবে নির্বাচিত হন।

ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. সালেহ উদ্দিন। গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। অধ্যাপক ডা. সালেহ উদ্দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্রাক-সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের ত্রিমুখী মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেছেন নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজের রেজিস্ট্রার ডা. তৌহিদুর রশিদ চৌধুরী ও তাঁর ছেলে ছেলে তালহা বিন তৌহিদ চৌধুরী। গত ২৬ ডিসেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ডা. তৌহিদের স্ত্রীও গুরুতর আহত হন।

দীর্ঘদিন ব্রেন ক্যান্সারে ভুগে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার সাবেক পরিচালক ডা. মো. আব্দুল বাকী। গত ৭ ডিসেম্বর নিজ বাসায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও এক পুত্র রেখে গেছেন ডা. আব্দুল বাকী। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

রংপুর অঞ্চলের বিশিষ্ট অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ (হাড়জোড়) প্রবীণ চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মমিনুল আলম মোমিন ৩ ডিসেম্বর রংপুরের নিজ বাসায় মারা গেছেন। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। চাকরিজীবনে পাবনা সদর হাসপাতালে আরএমও এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরএস ক্যাজুয়ালিটি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন অধ্যাপক ডা. মো. মমিনুল আলম।

পপুলার মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসিনা ইকবাল মারা গেছেন ১০ ডিসেম্বর। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ডা. হাসিনা ইকবাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এজেডএম মাহফুজুর রহমানের সহধর্মিনী।

গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহানারা বেগম গত ৩ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজের সাবেক এ শিক্ষকের মৃত্যুতে শোক জানায় প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. হাফিজ উদ্দিন চৌধুরী গত ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মারা যান। গুনী এ চিকিৎসকের মৃত্যুতে শোক জানায় ডেন্টাল সার্জনদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি। সংগঠনটির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করতেন ডা. হাফিজ উদ্দিন।

গত ২ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ডা. সৈয়দা কামরুন্নাহার উর্মি। ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ডা. উর্মি ঢাকা ডেন্টাল কলেজের পেডোডন্টিক্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের (ডি কার্ড, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ) সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. শাকিল আহমেদ। ২৭ ডিসেম্বর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নভেম্বরে না ফেরার দেশে নয় চিকিৎসক

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. একেএম মতিউর রহমান ৮ নভেম্বর রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) থেকে ১৯৮২ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আজীবন সদস্য অধ্যাপক মতিউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের (বিপিএ) কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাবেক সহ সভাপতি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনপ্রিয় শিক্ষক গাইনি এন্ড অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম খালিদুজ্জামান ২৩ নভেম্বর হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন। তিনি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চট্টগ্রাম পার্কভিউ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. সাইয়েদুল ওমাম। ১৬ নভেম্বর কক্সবাজারের ডুলহাজরায় পিক-আপ গাড়ির সাথে সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। কুরআনের হফেজ ডা. সাইয়েদুল ওমামের মৃত্যুতে তাঁর সহপাঠী ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের ১৪তম ব্যাচের ছাত্রী ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. মোশারফ হোসেন খন্দকারের স্ত্রী ডা. নাফিয়া শারমীন ১৪ নভেম্বর মারা গেছেন। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান তিনি। ডা. নাফিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রাজীব আহসা‌ন ৭ নভেম্বর রাজধানীর এভার‌কেয়ার হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন তিনি। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে অল্প সময়ের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেন ডা. রাজীব। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. তৌফিক আহমেদ শুভ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ২৭ নভেম্বর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে মারা যান তিনি। তৌফিক আহমেদ শুভ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের গোমা এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ আইচ ৩ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ডেঙ্গু পরবর্তী জটিলতাসহ হেমাটলজিক্যাল ডিজঅর্ডারে ভুগছিলেন।

প্রবীণ ডেন্টাল সার্জন ডা. এম আর হাসান (ডি-১২) ১০ নভেম্বর মারা গেছেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন তিনি। ডা. হাসান চাকরি ও প্রাকটিস জীবনে সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামীয়া কলেজ রোডে (হাসান ডেন্টাল কেয়ার) দীর্ঘ সময় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ১৩ চিকিৎসকের বিদায়

অক্টোবর মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালকসহ (ডিজি) ১৩ জন চিকিৎসক বিদায় নিয়েছেন। 

এর মধ্যে স্বাস্থ্যের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ মারা গেছেন গত ২৯ অক্টোবর। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সাবেক মহাপরিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সাবেক এ স্বাস্থ্য প্রশাসকের মৃত্যুতে শোক জানায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানসহ বিভিন্ন চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ।

তার চার দিন আগে গত ২৫ অক্টোবর সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পারি জমান প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, জনপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান। এর আগে ২৪ অক্টোবর ভোরে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। পরে রাজধানীর ল্যাবএইড (ধানমন্ডি) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ডা. রিদওয়ানুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশে মেডিসিন বিভাগের একজন কিংবদন্তি শিক্ষক ও দেশবরেণ্য চিকিৎসক। মেডিকেল শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণায় সমান আলো ছড়িয়েছেন তিনি। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ে তাঁর গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সকল মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ১৬৭টি পাবলিকেশন এবং ৫ হাজার ২৮৪টি সাইটেশন রয়েছে৷

জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ১২ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আবদুর রাজ্জাক মিয়া। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন জনপ্রিয় চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজেম আলী আহমেদ। ২৯ অক্টোবর রাজশাহী মহানগরীর বর্ণালী মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। চিকিৎসদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর লক্ষ্মীপুরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দিতেন ডা. আলী আহমেদ। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে রোগী দেখে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বর্ণালীর মোড়ের খানিকটা আগে রাজীব চত্বরের বিপরীত পাশে মসজিদের নিকট তাঁর মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় অতর্কিতে তাঁর বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ডা. কাজেম আলী আহমেদ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন রামেকের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) থেকে ডার্মাটোলজিতে এফসিপিএস সম্পন্ন করেন। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে ডিডিভি করেন। তিনি অল্প সময়ে কসমেটিক সার্জারিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।

গত ৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি এসএসসি ও এইচএসসির গন্ডি পেরিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্বাস্থ্যসেবার সনদ গ্রহণ করেন ডা. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী মেডিকেল উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেতে যান তিনি। বিস্তৃত ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি রামেকের পাশাপাশি বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আরা জে জেনান ১৫ অক্টোবর মারা গেছেন। রাজধানীর ধানমণ্ডির নিজ বাসায় মারা যান তিনি। বিস্তৃত কর্মজীবনে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজেও শিক্ষকতা করেছেন।

খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শেখ নিশাত আব্দুল্লাহ গত ২ অক্টেবর ভোর ৫টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সংযুক্তিতে কর্মরত ছিলেন। ডা. নিশাত আব্দুল্লাহ এমবিবিএস পাস করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেট ছিলেন তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. তপন কুমার মন্ডল মারা গেছেন। ২২ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ডা. তপন কুমার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরে সার্জারি এফসিপিএস করে সম্পন্ন করেন।

জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ডা. মো. হাফিজুর রহমান (৩৮) ট্রাক চাপায় নিহত হন। ৮ অক্টোবর নান্দিনা-জামালপুর সড়কের জয়রামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় মস্কিষ্কে মারাত্মকভাবে আঘাত পাওয়া আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মুবাশ্বির ২৭ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে দীর্ঘ ২৯ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর সাথে সকল লেনদেন চুকিয়ে অনন্তকালের পথে যাত্রা শুরু করেন তরুণ এ চিকিৎসক।

ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সিটি ডেন্টাল কলেজের (সিডিসি) ডা. শাহরিয়ার মোর্শেদ সৈকত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ২২ অক্টোবর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেসে (নিন্স) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর গত ১৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় দুর্ঘটনায় আহত হন সিডিসির ১৬তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে নিউরো সায়েন্সেসের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক মারা যান। ২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের (ইউডিসি) পঞ্চম ব্যাচের ডা. মাহমুদা সারোয়ার বাবলী ৩ অক্টোবর মারা গেছেন।

সেপ্টেম্বরে বিদায় নেন আট চিকিৎসক

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন ২৯ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারে চেম্বার করতে গিয়ে হঠাৎ করে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। বিকেল চারটার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালের নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রোডের হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করতে যেতেন অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (সিএমসি) ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। কর্মজীবনে সিএমসি ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অ্যাসথেটিক ডার্মাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিনাত মেরাজ স্বপ্না ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে কে-৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। কর্মজীবনে সর্বশেষ ইউনাইটেড হাসপাতালে ডার্মাটোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ভাষা সৈনিক ডা. এ.এ. মাজহারুল হক ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তর কাফরুলের বাসায় মারা যান। ডা. এ.এ. মাজহারুল হক ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের নির্মিত প্রথম ইটের শহীদ মিনার তৈরিতে যুক্ত হন। ১৯৪৬-৪৭ সালে ছাত্রাবস্থায় ব্রিটিশ হটাও আন্দোলনে প্রবলভাবে সম্পৃক্ত থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন ডা. মাজহার।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এস এ আব্দুল বারী মারা গেছেন ১৪ সেপ্টেম্বর। বার্ধক্যজনিত জটিলতা নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক আব্দুল বারী। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অধ্যাপক আব্দুল বারী রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছেন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক ডা. রাফিউদ্দিন আহমেদ। ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। অধ্যাপক ডা. রাফিউদ্দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

বারিন্দ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাকিলুর রহমান রকি ৬ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা ডা. শাকিলুর রহমান রকি ছিলেন রামেকের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি উদয়ন ডেন্টাল কলেজের জেনারেল ফার্মাকলোজি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষিকা অধ্যাপক ডা. শাহিন আরার স্বামী।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. আয়নাল হক ৪ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ডা. আয়নাল হক বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের (বিপিএ) কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এম-১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন প্রয়াত এ চিকিৎসক।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিনক মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল। ২ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। করোনাকালীন সময়ে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে নিরলস চিকিৎসা দিয়ে গেছেন শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের ২৭তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী।

ডেঙ্গুতে তিনজনসহ আগস্টে দশ চিকিৎসকের মৃত্যু

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. মো. আব্দুল  কাদের খান ৩০ আগস্ট মারা গেছেন। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ছাড়াও জয়পুরহাট জেলার সিভিল সার্জন এবং প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের তরুণ চিকিৎসক বায়েজিদ আহমেদ। ২৩ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ডা. বায়েজিদের বাড়ি ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায়। তিনি বাবা-মার একমাত্র সন্তান ছিলেন।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মোজাম্মেল হক মারা গেছেন ১৩ আগস্ট। তিনি মেডিকেলের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ১২ আগস্ট না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ডেন্টাল সার্জন ডা. কামরুল ইসলাম জুয়েল। তিনি পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান উচ্চতর কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসক শরীফা বিনতে আজিজ। ১১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি। ডা. শরিফা রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস পার্ট-২ এ অধ্যয়নরত ছিলেন তিনি।

বরিশালের গৌরনদীতে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ইকরা বিনতে হাফিজ নিহত হন। ৯ আগস্ট উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান ময়মনসিংহ মেডিকেলের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. আলমিনা দেওয়ান মিশু। ৭ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। ডা. মিশু সর্বশেষ বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইসিএমএইচ) গাইনি এন্ড অবস বিভাগে রেসিডেন্ট (৩৯ ব্যাচ) হিসেবে অধ্যয়নরত ছিলেন।

প্রবীণ চিকিৎসক আব্দুর রহমান ৪ আগস্ট স্ট্রোক করে মারা যান। সাতক্ষীরার কলারোয়ার প্রাক্তন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ আগস্ট মারা গেছেন ৪২তম বিসিএসের ডা. হিল্লোল দে। ভোলার লালমোহন উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন।

জুলাইয়ে একজনের আত্মহত্যাসহ মৃত্যু ৬ 

প্রথিতযশা গাইনি এন্ড অবস্ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ তাহের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন। ডা. এম এ তাহের খান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

স্ট্রোকজনিত কারণে অল্প বয়সে না ফেরার দেশে পারি জমান ডা. আবু রাফায়েল মোহাম্মদ রাফি। ২৬ জুলাই ঢাকার সিএমইএইচ এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। ডা. রাফি রংপুর মেডিকেল কলেজের ৩৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান সাভারের সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ডা. ফাতেমা-তুজ-জোহরা রওনক। ২২ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি ১৫ মাস বয়সী ছেলে, স্বামী, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক কলহের জেরে ১৮ জুলাই আত্মহত্যা করেন কুষ্টিয়ার বেসরকারি একটি হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. সাদমান রাফি রনি (৩৮)। পারিবারিক সূত্রের বজানা যায়, তাঁর পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছে, এজন্য তিনি হতাশায় ভুগতেন। বেশ কিছু দিন ধরে স্ত্রী ডা. নাহিদা সুলতানা নিপার সাথে ঝামেলা চলছিল, হতাশার অন্যতম কারণ ছিল এটা। তিনি সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। দুইজন দুই জায়গায় থাকতেন। তাঁর ১২ বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। ওই কন্যা তার মায়ের সঙ্গেই থাকতো। ডা. নাহিদা মেয়েকে তার বাবার সঙ্গে  কথা বলতে দিতো না। এজন্য ডা. সাদমানের মনে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়।

নিউরোলজিকাল বিভিন্ন জটিলতা ও সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাবেক উপ-পরিচালক (অডিট) ডা. মাহফুজা বেগম ৭ জুলাই মারা যান। ডা. মাহফুজা বেগম ১৯৭৭ সালে ৩১ জানুয়ারি যশোরের শৈলকুপা রুরাল হেলথ সেন্টারে মেডিকেল অফিসার হিসাবে সরকারি চকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি রাজশাহী,  খুলনা ও ঢাকায় বিভিন্ন পদে চাকরি করেন।

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে না ফেরার দেশে পারি জমান জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরপি ডা. অভিজিৎ কুমার সিংহ। ৭ জুলাই মাত্র ৪০ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ডা. অভিজিৎ কুমার রংপুর মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনা মেডিকেলের শিশু বিভাগের কর্মরত ছিলেন।

সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুলসহ জুনে পাঁচ চিকিৎসক বিদায়

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন চট্টগ্রামে-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমিন। ২ জুন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ডা. আফছারুল আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সরকারের নৌপরিবহন ও পরে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ডা. আফছারুল আমিন।

ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে ৪ জুন মারা গেছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাজেদুর রেজা ফারুকী। চট্টগ্রামে লোহাগাড়ায় দা’য়ের কোপে বিচ্ছিন্ন পুলিশ কনস্টেবল জনি খানের (২৮) কবজি জোড়া লাগিয়ে সারা দেশে আলোচিত হয়েছিলেন ডা. সাজেদ রেজা ফারুকী। তিনি ১৯৯৩ সনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) থেকে অর্থোপেডিকসে এমএস পাস করেন।

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৩৯তম ব্যাচের কর্মকর্তা ডা. এম আরিফুর রহমান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২২ জুন মারা গেছেন। তিনি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক মেডিকেল অফিসার। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ১৬তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনে এমডি ফেইজ-এ-তে অধ্যয়নরত ছিলেন।

সেন্ট্রাল ফর উইমেন্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ’র (সিডব্লিউসিএইচ) অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাফুজা চৌধুরী ১৩ জুন কানাডায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন মস্তিষ্কের জটিলতায় ভুগে মারা গেছেন ৩৩তম বিসিএসের ডা. ইফতেখারুল আলম লিংকন। ২ জুন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ডা. ইফতেখারুল ইসলাম রংপুর মেডিকেল কলেজের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মে মাসে ছয় চিকিৎসকের জীবনাবসান

বাংলাদেশের আধুনিক ডেন্টিস্ট্রির অন্যতম পথিকৃৎ কিংবদন্তি শিক্ষক অধ্যাপক ডা. শামসুল আলম ১৬ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডন্টিক্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ডেন্টাল অনুষদের সাবেক ডিন ছিলেন। বাংলাদেশ এন্ডোডন্টিক সোসাইটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন অধ্যাপক ডা. শামসুল আলম।

কার্ডিওলজির স্বনামধন্য অধ্যাপক ডা. ফখরুল ইসলাম মারা যান ২৭ মে। মৃদুভাষী এ চিকিৎসকের মৃত্যুতে পরিবার ও সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মাবুদ ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন সিওমেকের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডিভিশনাল মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) ডা. মো. রফিকুল হোসেন খোকন ১৬ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন। গুণী এ চিকিৎসকের মৃত্যুতে তাঁর সহপাঠী ও সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করে। 

বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. আবদুর রহমান ৫ মে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং এ্যালায়েন্সের সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. মঞ্জুরুল হাকিম তুহিন ৩ মে চট্রগ্রাম পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে তিনি জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) থেকে পাবলিক হেলথের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কিংবদন্তী চিকিৎসক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিদায়

এপ্রিল মাসে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ চার চিকিৎসক মারা গেছেন।

কিংবদন্তী চিকিৎসক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১১ এপ্রিল ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংবদন্তী এ চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। করোনার পর কিডনি সমস্যার পাশাপাশি তার লিভারেও সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া তিনি অপুষ্টি‌সহ গুরুতর সেপ‌টি‌সে‌মিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত ৫ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার দুপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৬৪ সালে ডিএমসি থেকে এমবিবিএস ও ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব সার্জন্স থেকে জেনারেল ও ভাস্কুলার সার্জারিতে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দেশে ফিরে আসেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) মৌলভীবাজার জেলা শাখার আজীবন সদস্য ডা. মো. রিয়াজ উদ্দিন ২৬ এপ্রিল পারি জমান না ফেরার দেশে। স্বনামধন্য এ চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

শারীরিক জটিলতায় মাত্র ৩১ বছর বয়সে মারা যান বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. শায়লা রহমান। ১৩ এপ্রিল রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে ডা. শায়লা স্বামী, তিন বছরের কন্যা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অসংখ্য গুণীজন রেখে গেছেন।

সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস ১২ এপ্রিল মারা গেছেন। কার্ডিয়াক এরেষ্টে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মৃত্যুকালে অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বছরের শুরুতে দশ চিকিৎসকের বিদায়

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. মো. নাসির উদ্দিন মারা যান ৬ জানুয়ারি। একই দিন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. শওকত। দুইদন পর (৮ জানুয়ারি) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান লেজার মেডিকেল সেন্টারের লেজার বিশেষজ্ঞ ডা. অনন্তা অঞ্চিতা সাঈদ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৬৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী চিকিৎসক মির্জা ইসতিয়াক আহমেদ প্রিন্স আইএলডি বা ইন্টারস্টিসিয়াল লাং ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পারি জমান ১৪ জানুয়ারি। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর একদিন পরেই মারা যান ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোলজী বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. স্বপন কুমার ঘোষ। ১৫ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মনিরুল ইসলাম মনির ১৬ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডা. মনিরুল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সবশেষ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের জেনারেল সার্জারির কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। মৃত্যকালে স্ত্রী, দুই সন্তান সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৮ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ, ব্রেন টিউমার ও আত্মহত্যা করে মারা যান দুই মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ও একজন চিকিৎসক।। এসব ঘটনায় শোক জানিয়েছেন স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা। চিরবিদায় নেওয়া শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক হলেন, ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আনোয়ার হোসেন হৃদয় ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী (এসএস-৫০) অন্তর রায় ও কুমিল্লা মেডিকেলের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ২২তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক ডা. এন কে নাতাশা ১৯ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ডা. নাতাশা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ডায়াবেটিস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পিএইচডি করেছিলেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সহযোগী অধ্যাপক এবং একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় বুলেটিনেরও সম্পাদক ছিলেন ডা. এন কে নাতাশা।

৫ ফেব্রুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. জাহানারা। সেপটিক শক ডিউ টু একিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পারি জমান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. সিমরান আশরাফ। ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসকের মৃত্যু
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ব্রিটিশ হাই কমিশনার

আগামী ১০ বছরে করোনার মতো কোনো মহামারীর শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক