২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:১৯ এএম
অনন্য উচ্চতায় অধ্যাপক কামরুল ইসলাম

বিনা পারিশ্রমিকে দেড় হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন

বিনা পারিশ্রমিকে দেড় হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেড় হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে সাড়ে ৪ ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিকেজে আরও এক ধাপ উচ্চতায় নিয়ে যান স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক।

গত ১৬ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করা ডা. কামরুল ইসলামের অস্ত্রোপচারে সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশের বেশি।

বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে ডা. কামরুল জানান, রাত সাড়ে আটটায় মাদারীপুরের এক যুবকের অপারেশন শুরু হয়, শেষ হয় রাত সাড়ে ১২টায়। 

মো. শহীদুল ইসলাম নামে ওই যুবকের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রতিস্থাপনের জন্য ৫৫ বছর বয়সী বাবা ছেলেকে ডান পাশের কিডনিটা দিয়েছেন।

দুই বছরে ৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপন

এর আগে ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর ১০০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন করেন ডা. কামরুল। এতে তাঁর সময় লেগেছিল ১৪ বছর। এরপর ২৬ মাসে তিনি আরও ৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। 

রাজধানীর শ্যামলীতে নিজের প্রতিষ্ঠিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে থাকেন এই মানবিক চিকিৎসক। প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি কিডনি প্রতিস্থাপন করেন তিনি। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের ওষুধসহ অন্যান্য খরচ ছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীকে অর্থ দিতে হয় না। সব মিলিয়ে খরচ হয় দুই লাখ টাকা। প্রতিস্থাপন পরবর্তী ফলোআপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীকে টাকা দিতে হয় না।

১৯৯০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে স্বর্ণপদকসহ এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ১৯৯৫ সালে এফসিপিএস এবং ২০০০ সালে বিএসএমএমইউ থেকে ইউরোলজিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ থেকে তিনি এফআরসিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

পাবনার ঈশ্বরদীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মো. আমিনুল ইসলামের ছেলে ডা. কামরুল ইসলাম ২০০৭ সাল থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে যাচ্ছেন।

মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বিষয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পান ইউরোলজি সোসাইটি স্বর্ণপদক। 

জাতীয় কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (নিকডু) চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। পরে বিস্তৃত পরিসরে চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠা করেন সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল।

জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের দেশের গরিব রোগীদের আরও বেশি করে সেবা দেওয়া যায়, আরও বড় পরিসরে অনেক মানুষকে যাতে সেবা দিতে পারি—এটাই আমার মূল পরিকল্পনা। আমাদের সেবার গুণমান আরও বাড়ানো যায়, সেদিকে আরও বেশি মনোযোগ দিব। আমরা বাণিজ্যিকভাবে অতিরিক্ত খরচ চাই না, সেবার মানটা ঠিক রাখতে। সেটা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে হচ্ছে। সে জিনিসটাই যেন, আমাদের দেশেও হতে পারে সেদিকে মনোযোগী হতে চাই।’

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক