বছরে স্তন ক্যান্সারে ৮ হাজার নারীর মৃত্যু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট হাজার নারী মারা যাচ্ছেন। এ ছাড়া বছর দেশে ১২ থেকে ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন।
আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট আয়োজিত স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের অতিরিক্ত কর কমিশনার আয়েশা সিদ্দিকা শেলী।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলে এই ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। আর এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আয়েশা সিদ্দিকা শেলী বলেন, দেশে প্রতি আটজন নারীর মধ্যে একজন নারী স্তন ক্যান্সার বহন করেন। তবে এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে তা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রোগ নির্ণয় হচ্ছে একেবারে শেষ স্তর বা চতুর্থ স্তরে গিয়ে। এর সঙ্গে নারীর জীবন, শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এখন স্তন থেকে টিউমার সরিয়ে ফেলে নারীর সৌন্দর্য রক্ষা করা যায়। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। এই রোগ দেখা দিলে নারী মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সমস্যায় পড়েন। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের রোগ নির্ণয় করতে পারলে এটি নিরাময় সম্ভব। নারীরা নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করতে পারেন। দ্বিতীয় স্তরে ধরা পরলেও এই রোগ নিরাময় সম্ভব। ৩০ বছরের পর থেকে নারীরা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন। এজন্য আমাদের স্ক্রিনিংটা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ জেড মাহমুদুল হাসান বলেন, মায়েরা এখনও স্তন শব্দটা উচ্চারণ করতেই লজ্জাবোধ করে। শুধু তাই নয়, নারীদের সংবাদ পড়া বা দেখার ক্ষেত্রেও তেমন আগ্রহী দেখা যায় না। প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা শুরু করবেন ২০ বছরের পর থেকে। এই তথ্য গণমাধ্যমকেই দিতে হবে।
ডা. এ জেড মাহমুদুল হাসান বলেন, কোনো রকম চাকা পেলেই তা ক্যান্সার নয়, এটি চর্বির জন্য হতে পারে। বুকের চামড়ায় কোন ধরনের পরিবর্তন দেখতে পেলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন। মাসিকের সময় এই রকম কোনো সমস্যা হলেও তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।
তিনি বলেন, ৪০ বছরের পর থেকে ঝুঁকি থাকলে পরীক্ষা করবেন, আর ঝুঁকি না থাকলে তিন বছর পর পর পরীক্ষা করবেন। কোনো কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে বোঝা যাবে আপনি আক্রান্ত হয়ে গেছেন। পরিবারে ক্যান্সার থাকলে ঝুঁকি থেকে যায় বলেও তিনি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নূরুন নাহার হেনা বলেন, ‘আমাদের নারী সমাজকে সচেতন করতে হবে। আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, এই নারীর বিপর্যয় আমরা মেনে নিতে পারি না। গ্রামের নারীরা জানেন না এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করতে তিনি নিজেই যথেষ্ট। এটা তিনি যদি অনুভব করেন, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। তবে এটা যেহেতু ব্যয়বহুল চিকিৎসা, সেজন্য নারীদের এই চিকিৎসার সহায়তা দিতে একটি সরকারি হাসপাতালের প্রয়োজন রয়েছে।’
টিআই/এএনএম