হরমোন এবং স্তন ক্যান্সার
ক্যান্সারের কথা শুনলে সবাই ভয় পেয়ে যান। অবশ্য ভয় পাওয়ার কারণও আছে। প্রতিদিন ক্যান্সারে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ক্যান্সারের রোগী বা তার পরিবারের সদস্যদের কষ্টের কোনো শেষ থাকে না। এ ছাড়া ক্যান্সারের চিকিৎসাও অনেক ব্যয়বহুল। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধের দিকে আমাদের বেশি নজর দিতে হবে।
স্তন ক্যান্সারের কারণ
স্তন ক্যান্সারের অনেক কারণ আছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে পিল গ্রহণ করে। এসব পিলে ইস্ট্রোজেন এবং কোনো কোনোটিতে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিল গ্রহণ করলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
হরমোন গ্রহণে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি
৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে মেয়েদের মাসিক চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় মেনোপজ। এই সময় একজন মহিলার নানা রকম শারীরিক এবং মানসিক কষ্ট হয়, এই জন্য অনেকে হরমোন গ্রহণ করে। একে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বলা হয়। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণ করলে কিন্তু স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
স্তনে চাকা-গোটা হলে চিকিৎসক দেখান
আমাদের দেশে অনেক স্তন ক্যান্সারের রোগী পাওয়া যায়। তাই এসব বিষয় নিয়ে জানতে হবে। যদি স্তনে কোনো অস্বাভাবিক চাকা বা স্তনে গোটা অনুভূত হয়, তাহলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসক দেখাতে হবে। কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে যদি টিউমার শনাক্ত করা যায়, সেটার চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। কিন্তু ক্যান্সার দূরবর্তী জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে, তার চিকিৎসা অনেক জটিল হয়ে যায় এবং অনেক সময় জীবন নাশের আশঙ্কা থাকে।
যেহেতু ইস্ট্রোজেন হরমোনের সাথে স্তন ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে, সুতরাং যেসব পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে তারা পিল খাবার ব্যাপারে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করবেন। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণ করবেন না। এতে স্তন ক্যান্সার হতে পারে। সবাই সচেতন হলে স্তন ক্যান্সার কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
এমইউ/