দেশব্যাপী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযান চলছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগীরর বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ও ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মহিউদ্দিন এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নরমাল স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফার আদায়ের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। ওষুধ বিক্রয়ের পর ক্রেতাকে রশিদ প্রদানের জন্য কঠোরভাবে বলা হয় এবং বিক্রয় রশিদ প্রদানের বিষয়টি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে সারাদেশে অবৈধ ও অনুমোদনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক এবং ডেঙ্গু সনাক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি আদায়ের তদারকির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান।
এ ছাড়া রাজবাড়ী জেলার সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সরকারি নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এরআগে গতকাল মঙ্গলবার অপারেশন থিয়েটারে ময়লা আবর্জনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা ও পরীক্ষার মূল্য বেশি নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফরিদপুরে হাসপাতালসহ ৪টি ডায়াগনস্টি সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) চলমান ডেঙ্গু সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আয়োজিত ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, সারা দেশের হাসপাতাগুলোতে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে। ডেঙ্গুর এই ক্রান্তিকালে এই অভিযান আরও জোরদার করবো।
তিনি বলেন, সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশনা দিয়েছি, প্রত্যেকটি হাসপাতালে র্যাপিড রেসপন্স টিম তৈরি করার জন্য। এই টিম যারা অপেক্ষাকৃত খারাপ অবস্থার রোগী তাদের প্রতিনিয়ত মনিটরিং করবে। রোগীর অবস্থা যাতে আরও খারাপ না হয় এবং এ রকম কোনও রোগীকে ঢাকার দিকে যেন পাঠানো না হয়।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘ডিজি ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনসহ যারা দেশে স্যালাইন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে যুক্ত আছেন, বিভিন্ন ফারমাসিউটিক্যাল কোম্পানির সাথে আমরা দফায় দফায় বসে হিসাব করে দেখেছি, সবার কাছে যথেষ্ট পরিমাণ স্যলাইন আছে, সংকট হওয়ার কথা না। তারপরেও অরিক্তি মজুদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
ডা. আহমেদুল কবীর আরও বলেন, ‘সিভিল সার্জনদের বলা হয়েছে একটি সমন্বয় টিম করার জন্য। সিভিল সার্জন, ভোক্তা অধিকার এবং লোকাল ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে একটি অভিযান চালানোর জন্য বলা হয়েছে। যেসব ফার্মেসি কিংবা ক্লিনিক স্যালাইন মজুদ করেছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবো। এ ছাড়া অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
এএইচ