সহকারী অধ্যাপক সেজে প্রতারণা, রাজধানীতে ভুয়া চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে মো. জহিরুল ইসলাম নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী অধ্যাপক পরিচয়ে দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (১ সেপ্টম্বর) যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল আলম মেডিভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) একজন চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে।
মামলার এজহার থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেড মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সুজনের নাম ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকয় রোগী দেখে আসছিলেন প্রতারক মো. জহিরুল ইসলাম। ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সুজন বিষয়টি জানার পর শেষ রক্ষা হলো না ভুয়া চিকিৎসক জহিরুলের।
ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আমার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করেছেন। বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় প্রতারককে ধরে যাত্রাবাড়ী থানায় সোপর্দ করি, এবং মামলা দায়ের করেছি।’
জহিরুল ইসলামা ডা. শফিকুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে যাত্রাবাড়ীতে সাফা-মারওয়া হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা দিয়েছেন। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরে নিউ নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তার ভিজিটিং কার্ডে বিভিন্ন ডিগ্রির নাম লিখা ছিল। যেমন-বিসিএস (স্বাস্থ্য), সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি এন্ড অর্থোপেডিকস রিহ্যাবিলিটেশন (পঙ্গু হাসপাতাল)। আসলে এর সবই সবই ভুয়া। তিনি ডিপ্লোমা করেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবীর মেডিভয়েসকে বলেন, মো. জহিরুল নামে এক চিকিৎসক নিউ নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একদিন রোগী দেখেছেন। তার বিষয়ে আমার কাছে তথ্য আসার পর, তাকে ধরার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু সে আর এখানে আসেনি।
ওই ডায়াগনিস্টিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, ডায়াগনস্টিকের মালিকরাও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি, এবং এ ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ভুয়া চিকিৎসক প্রতিরোধে লক্ষ্মীপুরর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের মিটিং করে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো চিকিৎসক চেম্বার করতে হলে, অবশ্যই সিভিল সার্জন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সিভিল সার্জন অফিস কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অনুমতি দিলে চিকিৎসকরা চেম্বার করতে পারবেন।
ভুয়া চিকিৎসকদের দেশ ও জাতির শত্রু আখ্যা দিয়ে ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, এদের কারণে প্রকৃত চিকিৎসকদের বদনাম হয়, তাই এদের বিরুদ্ধের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে এ ঘটনা সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ডা. শফিকুল ইসলাম সুজন। তিনি লিখেন-‘আসসালামু আলাইকুম। আমি ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সুজন। এই লোক প্রতারক এবং সে আমার নাম ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রোগী দেখে আসছিলেন। মহান আল্লাহর সহায়তায় তাকে ধরে পুলিশের মাধ্যমে মামলা করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রতারকের আসল পরিচয়- মো. জহিরুল ইসলাম, পিতা: নুর আলম খান, মাতা: রুলিয়া বেগম, ঠিকানা: বোয়ালিয়া, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল। এই ধরনের প্রতারক হতে সবাইকেই সাবধান থাকতে হবে। এরা দেশ ও জাতির জঘন্য শত্রু। ভুয়া ডাক্তার ধরিয়ে দিন।’
প্রসঙ্গত, ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সুজন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেড মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।
এএইচ/এমইউ
-
২১ এপ্রিল, ২০২৬
বিএমডিসির নিবন্ধন জালিয়াতি
পিরোজপুরে ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের দুই বছরের সাজা
-
২১ নভেম্বর, ২০২৫
-
২৫ জানুয়ারী, ২০২৫
-
১৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৯ মার্চ, ২০২৪
-
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩
-
০৩ অক্টোবর, ২০২৩