২৭ অগাস্ট, ২০২৩ ০৪:২২ পিএম

প্রতি বছর যক্ষ্মায় ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু

প্রতি বছর যক্ষ্মায় ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু
তথ্যমতে, টিবি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পুরুষ ৫৪ শতাংশ। এছাড়া মহিলা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ শতাংশ ও শিশু আক্রান্ত হয়েছে ৮ শতাংশ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে প্রতি বছর টিউবারকোলোসিস বা যক্ষ্মায় (টিবি) ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ রোববার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) মিলনায়তনে আয়োজিত টিবি প্রাইভেট-পাবলিক মিক্স (পিপিএম) স্টেক হোল্ডারসদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তারা এ কথা বলেন।

সভায় দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে টিবি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬১ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও ৬৭ হাজার ৪৩৯ জন শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেননি। টিবি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পুরুষ ৫৪ শতাংশ। এছাড়া মহিলা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ শতাংশ ও শিশু আক্রান্ত হয়েছে ৮ শতাংশ। এর বাইরে ৪ হাজার ৫০০ জন রোগী মেডিসিন প্রতিরোধযোগ্য টিবিতে আক্রান্ত আছেন বলেও জানানো হয়েছে।

সভায় বক্তারা সরকারের দেশে ২০২৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ৭৫ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাকি দুই বছরে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে শঙ্কার প্রকাশ করেছেন। 

তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিউবারকোলোসিস বা যক্ষ্মা (টিবি) রোধে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো দেশে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এই টিবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, প্রতি বছর ৩ লাখ যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়। সরকার তাদের বিনামূল্য ওষুধ দেয়। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমেছে। তবে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আরও দূর যেতে হবে। এখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। যারা প্রশাসনের দায়িত্বে আছে তাদের বুঝতে হবে স্বাস্থ্যের জন্য, চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের কী প্রয়োজন। 

বিএমএ মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি বড় সফলতা দেখিয়েছে। তবে সব কৃতিত্বের দাবিদার এককভাবে সরকারের নয়। সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়ছে। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছাতে পেরেছি। ভারতের নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন একবার বলেছিলেন, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উচিত বাংলাদেশ ঘুরে আসা। বাংলাদেশ কীভাবে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করছে, তা দেখে শেখার রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে চিকিৎসকদের রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসককে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। এতে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন হবে। যে বা যারা স্বাস্থ্যখাতের পরিকল্পনা করবেন তাদের এই বিষয়ে ভালো ধারণা থাকা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি তা সম্পূর্ণই প্রাধানমন্ত্রীর কৃতিত্ব।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক