২০ হাজার টাকায় সংসার চালানো সম্ভব? প্রশ্ন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি এক নারী চিকিৎসক বলেছেন, ‘আমরা যারা বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি, তাদের বয়সসীমা অবশ্যই ৩০ এর বেশি। তাদের সংসারের খরচ আছে এবং নিজস্ব খরচ আছে। থাকা ও খাওয়ার খরচ আছে। আমরা যারা ঢাকা শহরে আছি, সবাইকে বাসা ভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে।’
আজ শনিবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর শহীদ মিনারে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসক বলেন, ‘২০ হাজার টাকা ভাতা পেলে বাসা ভাড়া কত টাকা দেই? ২০,০০০ টাকায় সংসার চালানো সম্ভব? দৈনন্দিন জীবনের খরচ কিভাবে চালানো সম্ভব? সেটা যদি আমাদের হাতে ছয় মাস পর দেওয়া হয়, তাহলে বাড়িওয়ালা কি ছয় মাস পর বাসা ভাড়া নিবে। কোনো বাড়িওয়ালা সেটা নেয়? আপনি ছয় মাস না খেয়ে থাকবেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ চাকরিজীবীদের কাছে আমার প্রশ্ন, এক মাসের বেতন না পেয়ে পরের মাসের চাকরিতে যান? সেটা কখনও কেউ দেখেছেন। আমরা কিন্তু ছয় মাস অপেক্ষা করে থাকি, কখন ভাতা পাবো। কেউ কি চিন্তা করে দেখেছেন, এই ছয় আমাদের সংসার কীভাবে চলে?’
এর আগে সকাল ১০টা থেকে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন বেসরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। আন্দোলন চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। কর্মবিরতিতে গিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে, পরবর্তীতে অন্য কর্মসূচিতে যাবেন চিকিৎসকরা। সেটি হতে পারে অনশন।’
আন্দোলনকারীরা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রাইভেট পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডাক্তারদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ন্যায্য দাবির বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষ সমর্থন দিয়ে থাকলেও তাদের আশ্বাস বরাবরের মতোই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রাইভেট ট্রেইনিদের ব্যাপারে যে মন্তব্য করেছেন, সেটা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মন্ত্রী সাহেব আমাদের কাজের পরিধি এবং আমাদের মানবেতর জীবন সম্পর্কে মোটেও অবগত নন। মিথ্যা আশ্বাস এবং সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু আমরা পাইনি। তাই আজ (৮ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি এবং অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেন তারা।
গত সোমবার (৩ জুলাই) পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নূরুন্নবী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি আদায়ে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করছেন বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। গত ১৭ জুন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি আদায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সহযোগিতা চান তারা।
চিকিৎসকরা বলেন, ‘স্যার আপনি আমাদের পিতৃতুল্য অভিভাবক। আমরা আপনার সাহায্যের জন্য কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। জানি না, এই ন্যায্য দাবি কে পূরণ করবেন! একজনের কাছে গেলে আরেকজনের কাছে পাঠায়। আরেজনের কাছে গেলে তিনি অন্যজনের কাছে যাওয়ার কথা বলেন। আপনি দিক নির্দেশনা দিন, আমরা কার কাছে যাবো।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, ‘আমরা শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলে আমাদের দাবি পূরণ হতে পারে। আমরা আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সাড়ে সাত হাজার ছেলে-মেয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আপনি আমাদের দিকে তাকাবেন।’
রোগী সেবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েও তারা ঘরে ফিরে গেছেন।
কোনো দেশে পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা হয় না বলে বিএসএমএমইউ ভিসির দেওয়া তথ্য ভুল বলে উল্লেখ করেন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর বাংলাদেশে রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতা সবচেয়ে কম।
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন
বিএসএমএমইউতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের সমাবেশ
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২১ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
প্রাইভেট পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি
২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভাতা বৃদ্ধি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হলে কর্মবিরতির ঘোষণা