২০ জুন, ২০২৩ ১০:৪৮ এএম

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ৪১ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি সম্পন্ন

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ৪১ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি সম্পন্ন
দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও অন্যান্য ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থ ৪১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও অন্যান্য ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞা।

সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য এপিএ সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেন, এপিএ সংক্রান্ত কয়েকটি পরিভাষা সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। সেগুলো হলো:

১. এপিএ: একটি অফিসের বার্ষিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তি হচ্ছে এপিএ।

২. জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস): শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। ব্যক্তি পর্যায়ে এর অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।

৩. উদ্ভাবন : প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন অথবা অন্যান্য বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন বা আবিষ্কার।

৪. অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস): একজন নাগরিক কর্তৃক যে কোনো সেবার বিরুদ্ধে তার অসন্তোষ বা ক্ষোভ জানিয়ে অভিযোগ দাখিল করার ও তা নিষ্পন্ন করার ব্যবস্থা।

৫. সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি (সিসি): নাগরিক ও সেবাদাতার মধ্যকার চুক্তি‌ যেখানে সেবা প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় বিবরণ ও নির্দেশনা বিবৃত থাকে।

৬. তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ (আরটিআই): এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার রয়েছে এবং এ অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ তার যাবতীয় তথ্যের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স প্রস্তুত করে সংরক্ষণ করবে।

তিনি বলেন, বস্তুত এপিএ হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন অফিসের কার্যক্রম পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন করার হাতিয়ার। ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত এপিএ, এনআইএস, উদ্ভাবন এই ৩টির ভিত্তিতে অফিসের সাংবাৎসরিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা হতো। আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে এদের সাথে জিআরএস, সিসি, আরটিআই এই তিনটি যোগ হয়েছে। এই ছয়টির প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা করে বিভিন্ন সূচক রয়েছে, যে সমস্ত সূচক দিয়ে গাণিতিকভাবে পরিমাপ করা যাবে যে ঐ ছয়টি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কেমন কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন এপিএ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি হচ্ছে ব্যবসার বরাদ্দ অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। দ্বিতীয়টি হচ্ছে সুশাসনের প্রতিফলন ভিত্তিক কার্যক্রম। এনআইএস, উদ্ভাবন, জিআরএস, সিসি ও আরটিআই এই দ্বিতীয়টির অন্তর্ভুক্ত। এপিএ’র সর্বমোট ওজন মূল্য ১০০। তন্মধ্যে ব্যবসার ৭০ এবং সুশাসনের প্রতিফলন ভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য ৩০। এই ৩০ এর বিভাজন হচ্ছে: এনআইএস ১০, উদ্ভাবন ১০, জিআরএস ৩, সিসি ৪ ও আরটিআই ৩। এগুলোর জন্য আবার 'নম্বর' বণ্টন করা আছে: এনআইএস ৫০, উদ্ভাবন ৫০, জিআরএস ২৫, সিসি ২৫ ও আরটিআই ২৫। অর্থাৎ কোন প্রতিষ্ঠান জিআরএস এ ২৫ নম্বর পেলে তার ওজন মূল্য হবে ৪; আর ৪৮ পেলে হবে ৩ এর মত।

উদাহরণ দিয়ে ডা. বায়জীদ খুরশীদ বলেন, ‘একটি মেডিকেল কলেজে ছাত্রের অবিভাবক অভিযোগ দাখিল করলেন যে, তার সন্তান পীড়নের শিকার হয়েছে। এখন প্রতিপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে ওই অভিযোগটি আমলে নেয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পীড়নে ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ নীতি-২০২৩ অনুযায়ী তার প্রতিকার ব্যবস্থা করা। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ যদি কাজটি করে থাকেন তবে জিআরএস’র ক্ষেত্রে পয়েন্ট প্রাপ্ত হবেন। আবার বিধি মোতাবেক কোন সাংবাদিক কর্তৃক চাহিত তথ্য কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটি আরটিআই’র ক্ষেত্রে পয়েন্ট প্রাপ্ত হবেন।‌’

তিনি বলেন, এপিএ প্রণয়নের সময় সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহার (দিন বদলের সনদ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, রূপকল্প ২০৪১, স্মার্ট বাংলাদেশ ইত্যাদি), ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ৪র্থ শিল্প বিপ্লব, ডেল্টা প্ল্যান, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গ্রেজুয়েশন, মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নিতে হবে। উপরোক্ত ছয়টি ক্ষেত্রের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদা করে একজন ফোকাল পারসন থাকবেন, তারা এতদ সংক্রান্ত উপাত্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করবেন। এটার সাথে অবশ্যই প্রমাণক দাখিল করতে হবে। যেমন- উপরে অভিভাবকের যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেই অভিযোগপত্র, তার প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ইত্যাদি ডকুমেন্ট। মেডিকেল কলেজের ফোকাল পারসনগণ অধ্যক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করবেন।

এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক