প্রসবের জটিলতায় সিজার ২০ শতাংশে রাখা যায় না
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে বেশিরভাগ সময়ই মায়েরা গর্ভকালীন জটিলতা নিয়ে আসেন। যখন কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হয় না, তখন রেফার করা হয় জেলা সদর হাসপাতালে। ফলে অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান। এ কারণে নরমাল ডেলিভারি ও সিজারিয়ান সেকশনের অনুপাতটা ২০ শতাংশের মধ্যে রাখা বেশ জটিল হয়ে যায়।
আজ মঙ্গলবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।
অধিদপ্তর বলে, সাধারণত যে সকল স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে মায়েদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় (নরমাল ডেলিভারি) প্রসবের ব্যবস্থা থাকে, সেখানে সিজারিয়ান সেকশনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়। চিকিৎসকগণ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য অবস্থা অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, কিন্তু কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি নরসিংদী সদর হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মোট ডেলিভারির ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হবে সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য সেবার মান নির্ণয়ের জন্য স্কোরিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। এমআইএস'র নির্দেশ মতে যদি হাসপাতালে সিজারিয়ান সংখ্যা মোট ডেলিভারির ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হয়, তাহলেই ওই হাসপাতাল পূর্ণ পয়েন্ট পাবে, না হলে নম্বর কাটা যাবে।
জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে বেশিরভাগ সময়ই গর্ভবতী মায়েরা জটিল সমস্যা নিয়ে অন্যত্র থেকে রেফার্ড হয়ে আসেন। তখন অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান। ফলে নরমাল ডেলিভারি ও সিজারিয়ান সেকশনের অনুপাতটা ২০ শতাংশের মধ্যে রাখা বেশ জটিল হয়ে যায়। যেমন-নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনের পাঁচজন গর্ভবতী মা গুরুতর অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন এবং অস্ত্রোপচারই ছিল একমাত্র ভরসা।
প্রথম রোগী গর্ভাবস্থার ৩৫ সপ্তাহ থেকেই ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। ভর্তির পর থেকেই গর্ভের শিশুটি ঠিকঠাক মতো বাড়ছিলো না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যেটিকে বলে আইইউজিআর। রোগীকে গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়।
দ্বিতীয় রোগীর গর্ভাবস্থার ৭ মাস থেকে হাইপারটেনশন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় প্রি-একলামপশিয়া। এসময় রক্তচাপ মাঝে মাঝে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা দিয়ে ৩৭ সপ্তাহ পার করার পর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
তৃতীয় রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় শিশুর নড়াচড়া কম নিয়ে। আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্টে বলা হয়, সিভিআর অলিগো হাইড্রো এমনিওস অর্থাৎ গর্ভের পানির পরিমাণ অনেক কম। যা গর্ভের শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই অস্ত্রোপচারই ছিল একমাত্র ভরসা।
চতুর্থ রোগীর পূর্বে সন্তান প্রসবকালীন কিছু জটিলতা ছিল এবং বিলম্ব প্রসব ব্যথারও ইতিহাস আছে। তাই অস্ত্রোপচারই একমাত্র উপায়। এ ছাড়া পঞ্চম রোগীর পূর্বের সন্তানটি নরমাল ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় প্রসবের পরই মারা যায়। এরপর দ্বিতীয় সন্তানটি সিজারের মাধ্যমে হয়েছে, তাই ঝুঁকি এড়াতে রোগী তার তৃতীয় সন্তানও প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচারই বেছে নিয়েছেন।
সদর হাসপাতালের গাইনি ইউনিটের সকল চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, অফারেশন থিয়েটরে (ওটি) কর্মরত সকল নার্স ও স্টাফদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পাঁচজন মা ও নবজাতকরা সুস্থ রয়েছেন।
এসএস/এএইচ