জন্মগত ত্রুটির শিশু ঝর্ণা ঢামেক চিকিৎসকদের দক্ষতায় সুস্থতার দিকে
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয় শিশু ঝর্ণার। এ অবস্থায় এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে শিশুটিকে গর্ভাবস্থায় মেরে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে আরেক চিকিৎসকের পরামর্শে প্রসবের জন্য ঢামেক যান মা। পরবর্তীতে মেডিকেলে শিশুটির জন্ম হয়েছে এবং সেখানে চলে জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ধীরে ধীরে সুস্থ হবে শিশু ঝর্ণা।
জানা যায়, ডেলিভারির পূর্বে শিশুটির জন্মগত ত্রুটি ধরে পড়ে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শিশুটিকে গর্ভাবস্থায় মেরে ফেলার পরামর্শ দেন। কিন্তু বাবা-মা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মুনিরা ফেরদৌসের কাছে যান। ডা. মুনিরা গর্ভবতী মা’কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসাপাতালে প্রেরণ করেন। ঢামেক হাসাপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকগণ পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে শিশুটির বাবা-মাকে আশ্বস্ত করেন। তারা বলেন, শিশুটি পৃথিবীতে আসলে সুস্থ করা সম্ভব।
চিকিৎসকরা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে জানতে পারেন, শিশুটির খাদ্যনালির পাকস্থলির পর ক্ষুদ্রান্ত্রের শুরু ডিওডেনামে বাঁধা, এর পরের অংশ জেজুনামে খাবার যাবে না। মেডিকেলের ভাষায় যাকে বলা হয় Duodenal Atresia।
শিশুটি পৃথিবীতে আসার তিন দিন বয়সে এ্যানেস্হেসিয়ার অধ্যাপক ডা. দিলীপ ভৌমিক, নিওনেটাল সার্জারির সহযোগী অধ্যাপক ডা. জগলুল গাফফার খান জিয়া ও ডা. পার্থ সারথি মজুমদার বাঁধা বাইপাসের অপারেশন Duodenodunestomy করেন। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) চিকিৎসক ডা. ইশরাত লাকী ও শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ জাহিদ হোসেন সোহেল ফলো আপ অপারেশন করেন। ফলোআপ অপারেশনের ছয় দিন পর শিশুটি মায়ের বুকের দুধ খেতে শুরু করে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. টাবলু আব্দুল হানিফ বলেন, ‘মায়ের পেটে থাকাকালীন শিশুর জন্মগত ত্রুটি নিয়ে কিছু কিছু মা আসেন। এ অবস্থায় আমরা ফলো আপ করি এবং কিছু ক্ষেত্রে জন্ম নেওয়ার পর স্বাভাবিকও পাই। আবার কিছু ক্ষেত্রে ফলোআপে থাকে আর কিছু অপারেশন করে ভালো হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে শিশু না হওয়ার জন্য বন্ধ্যাত্ব একটা আলাদা বিষয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত এবং চিকিৎসায় লাখ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। সেখানে অবশ্যই মায়ের পেটের কোন শিশু মেরে ফেলা যাবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই শিশু সার্জনদের মতামত নিবেন। জটিল কার্ডিয়াক anomaly ছাড়া বেশিরভাগ জন্মগত ক্রটি অপারেশনের মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব। আর যেসব শিশু বেশি জটিলতা থাকে, তা আগেই Abortion হয়ে যায়।’
এসএস/এএইচ