চিকিৎসা সেবার বিকেন্দ্রীকরণ: আসতে হবে না ঢাকায়
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসা সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। ফলে নিজ নিজ বিভাগে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাবে মানুষ। এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ বুধবার (১০ মে) ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্স ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ ইউনিট) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাও পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৮ টি বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মান সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮ বিভাগে ৮টি ১৫ তলা বিশিষ্ট উন্নত মানের ক্যান্সার, কিডনি, লিভার হাসপাতাল তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবাকে ডিসেন্ট্রালাইজড করা হচ্ছে। মানুষ নিজ নিজ বিভাগে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। আগামীতে চিকিৎসা নিতে আর ঢাকায় আসতে হবে না।’
উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নতুন মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউগুলো দেখলে চোখ জুড়ে যাবে। এ ডেন্টাল কলেজ কত সুন্দর। আগের মতো স্বাস্থ্যসেবার প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর জরাজীর্ণ অবস্থায় নেই।
ডেন্টাল হাসপাতালের সেবা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ডেন্টাল হাসপাতালে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ মানুষ সেবা নেয়। এই হাসপাতাল সহ আমরা দেশের সব হাসপাতালের বেড দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করেছি। আগে দেশে বেড ছিল ২০ হাজারের মতো। এখন সেই বেড সংখ্যা ৭০ হাজার করা হয়েছে। ৪৫ হাজার নার্স ও ৩৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে টেকনিশিয়ান ও ফার্মাসিস্ট নিয়োগের কাজ চলমান আছে। দেশের হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি অনেকটাই কাভার করা গেছে। এখন এই লোকবল পুরণ হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় উন্নয়ন ঘটবে।’
ডেন্টাল কলেজের সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পাশের জমিটা এ প্রতিষ্ঠানের। সরকারই জমিটা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালকে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমরা সহযোগিতা করবো। জমি পেলে সম্প্রসারণ করতে পারবেন। আমাদের অনেক ইনস্টিটিউট আছে, কিন্তু ডেন্টাল ইনস্টিটিউট নেই। ডেন্টিস্টি তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দরকার আছে। এ জন্য ডেন্টাল ইনস্টিটিউটের প্রয়োজন আছে।’
সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৭ কোটি মানুষের চিকিৎসা দেশেই হয়। ২-৩ লাখ মানুষ বিদেশে যায় চিকিৎসা নিতে। ১৭ কোটির মানুষের মধ্যে এ সংখ্যা বেশি নয়। যাদের টাকা আছে, তারা আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য উন্নত দেশে যায়। কিন্তু যখন লকডাউন ছিলো, তখন কোথায় গেছেন? এদেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। এ দেশের চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, দাঁতের চিকিৎসা খুবই জরুরি। অথচ আমরা অবহেরা করি। দেশের বিরাট সংখ্যক মানুষ ধুমপান করে। ফলে মুখে ও গলায় ক্যান্সার হয়। মুখের ক্যান্সার এবং দাঁতের যাবতীয় সমস্যার সমাধানে ডেন্টাল কলেজ একটি বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এএইচ/এসএএইচ
-
১০ মে, ২০২৩
-
১১ এপ্রিল, ২০২৩