ডা. লুনা পারভীন 

ডা. লুনা পারভীন 

আবাসিক মেডিকেল অফিসার বহির্বিভাগ,
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।

 


১৮ এপ্রিল, ২০২৩ ০২:৪২ পিএম

ঈদযাত্রায় শিশুর স্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় করণীয়

ঈদযাত্রায় শিশুর স্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় করণীয়
যাত্রাপথে অবশ্যই সাথে পর্যাপ্ত পানি রাখবেন। একটু পর পর শিশুর শরীর মুছে ঠাণ্ডা করে দিবেন ও পানি পান করাবেন। এতে পানিশূন্যতা থেকে শিশুকে যেমন বাঁচাবে, তেমনি ঘাম হওয়া ঠেকাবে।

‘আবার এলো রে খুশীর ঈদ, মুসলমানের প্রাণের উৎসব ভাই। ছেলে বুড়ো ছুটছে নাড়ীর টানে, কেউ যেন আর এবার বাদ নাই।’ বছর ঘুরে ঈদ আসে, সবাই মেতে ওঠে নানা আয়োজনে, প্রাণের টানে সবাই ছুটে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। নানা উৎসব আর আনন্দে কেটে যায় এ সময়টা । তবে এবার উৎসবের আমেজের সাথে সূর্যের  উত্তাপটাও যেন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবুও কি ঠেকানো যায় মানুষকে, গরম বলে বাড়ি যাবে না, তা হতে পারে না। বড়রা না হয় এ গরম সহ্য করতে পারে, কিন্তু ছোটদের জন্য খুব কষ্টকর হয়। কোলের বাবুকে কি করে নিয়ে যাবেন, এত দীর্ঘ যাত্রায়- সে পরামর্শ থাকবে আজকের লেখায়।

প্রচণ্ড গরমে ছোট শিশুটিকে ঘরের বাইরে না নেওয়া উত্তম। কারণ ওরাই সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। পানিশূন্যতা থেকে শুরু করে ত্বকের নানাবিধ সমস্যার। তারপরও যদি একান্ত নিতেই হয়, তবে কিছু সাবধানতা পালন করবেন। যেমন-

১. শিশুর জামাকাপড় যেন পাতলা সূতি কাপড়ের ও হালকা রঙের হয়। এতে গরম কম লাগবে এবং সূতি কাপড় সহজে ঘাম শুষে নেয় বলে ঠান্ডা লাগা, চামড়ায় ক্ষত ও গামাচি হতে পারবে না। এ ছাড়া ছাতা, রোদ প্রতিরোধে চশমা ও সান্সস্ক্রীন লোশন অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
২. অবশ্যই সাথে পর্যাপ্ত পানি রাখবেন। একটু পর পর শিশুর শরীর মুছে ঠাণ্ডা করে দিবেন ও পানি পান করাবেন। এতে পানিশূন্যতা থেকে শিশুকে যেমন বাঁচাবে, তেমনি ঘাম হওয়া ঠেকাবে। পানির পাশাপাশি খাবার হিসেবে ঘরে তৈরি তরল কিছু খাবার, যেমন পাতলা করে খিচুড়ি, পায়েস, নরম করে নুডুলস ও লেবুর শরবত সাথে রাখবেন। এতে বাইরের খাবার থেকে জীবাণুর সংক্রমণ ও ডাইরিয়া হওয়া থেকে শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব। 
৩. টানা অনেকক্ষণ জার্নিতে থাকলে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে টয়লেট। চেপে রাখলে পরবর্তীতে প্রশ্রাবে সংক্রমণ, পেট ফাঁপা, শিশু অস্থিরতা শিকার হতে পারে। এজন্য ছোট বাচ্চাকে ডায়াপার পরিয়ে নিতে পারেন। আজকাল বিভিন্ন গ্যাস পাম্পে টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। হাইওয়ের মোড়ে মোড়ে খাবার হোটেল থাকে, কোথাও গেলে খোঁজখবর নিয়ে যাবেন আগে থেকেই।
৪. ধূলোবালি ও গরমে শিশুর হাঁচিকাশি হতে পারে, জনাকীর্ণ যানবাহনে অন্যের হাঁচিকাশিতেও সংক্রমণ ব্যাধির জীবাণু থাকতে পারে, এজন্য আপনার শিশুকে মাস্ক পরিয়ে নিতে পারেন বা হাত-মুখ ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে পারেন।

এর বাইরেও যেসব বিষয় সতর্ক থাকবেন

১. অতি উৎসাহে বাচ্চাকে বাইরের চটপটি, আচার, আমড়া ও চিপস খাওয়াবেন না। অতিরিক্ত গরমের অজুহাতে ঠান্ডা আইসক্রিম বা বাইরের শরবত খাওয়াবেন না। হঠাৎ গরমে ঠান্ডা খাওয়ালে তাপমাত্রার এই তারতম্যে শিশুর চট করে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। 
২. শিশুদেরকে বাস বা লঞ্চের উচ্চস্বর যুক্ত শব্দ, গানবাজনা থেকে দূরে রাখবেন। কারণ এসব শব্দ কানের উপর চাপ পড়তে পারে, এছাড়া ভয় পেয়ে কান্নাকাটি ও অস্থিরতা প্রকাশ করতে পারে। যানবাহনে উঠা নামার সময় তাদেরকে হাত ছাড়া করবেন না মোটেও, এরকম ভীড়েই চট করে শিশু হারিয়ে যেতে পারে। 
৩. কোন কারণে যাত্রাপথে আপনার শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে, বমি করলে বা জ্বর চলে আসলে ঘাবড়ে যাবেন না। এ সময় জামা কাপড় খুলে ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছিয়ে দিবেন। যানবাহনের খোলামেলা ছায়াযুক্ত জায়গায় বসিয়ে নিয়ে বাতাস করতে পারেন পাখা দিয়ে। স্রাইট বা সেভেনআপ জাতীয় রংহীন পানীয় ভেতরের গ্যাসটা বের করে (বোতলের মুখ খুলে ১৫-২০ মিনিট রাখলেই হয়) দিয়ে একটু একটু করে পাঁচ-দশ মিনিট পর পর খেতে দিলে বমি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ব্যাগে জ্বর, বমির ওষুধ, এন্টিহিস্টামিন, স্যালাইন প্রভৃতি আগেই সাথে নিয়ে রাখতে পারেন সাবধানতার জন্য।

এরপরও যে কোন সমস্যায় প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে পাররেন। ছুটির দিনেও ডাক্তার পাবেন সবসময় ইমার্জেন্সি সেবার জন্য। এখন বলতে পারেন, এত ঝামেলা করে কেউ শিশুকে বাসার বাইরে নেওয়ার জন্য। চোখ কপালে তুললেন, বিরক্ত হলেন! আসলে শিশুটি তো একা আপনার নয় , আমার দেশের ভবিষ্যতও। একে নিয়ে হেলাফেলা করতে আছেন? বছরের একটা দিন শিশুকে নিজের গ্রাম, শৈশব দেখাতে করলেনই না হয় একটু কষ্ট, হবে না বৃথা এ সাবধানতা, সময় হবে না নষ্ট।

এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত