১৯ জানুয়ারী, ২০২৩ ০৫:১৮ পিএম

‘মরণোত্তর অঙ্গদানকারী সারা ইসলামের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে’

‘মরণোত্তর অঙ্গদানকারী সারা ইসলামের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে’
বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় একটি যুগান্তকারী অর্জন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রথম অঙ্গদাতা সারা ইসলামের নাম বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদান ও বাংলাদেশে প্রথম সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় একটি যুগান্তকারী অর্জন। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রথম অঙ্গদাতা সারা ইসলামের নাম বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার এই মহৎ আত্মত্যাগের মহিমা চিকিৎসা বিজ্ঞানে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে সবার মাঝে সচেতনতা তৈরি হবে এবং যাদের প্রয়োজন এমন সব রোগী অঙ্গগ্রহণের মাধ্যমে নতুন জীবন পাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ব্রেন ডেথ কমিটিকে সক্রিয় করে তুলি। আমরা সকলে বিশ্বাস করি, ক্যাডাভেরিক রোগী অঙ্গদানের মাধ্যমে অসংখ্য অসুস্থ রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে মানবদেহে অঙ্গপ্রতিস্থাপন সংক্রান্ত আইন জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। সেই আইনের আলোকে বিএসএমএমইউর ভিসি হিসেবে আমি পদাধিকার বলে জাতীয় ক্যাডাভেরিক কমিটির সভাপতিও বটে।’

এর আগে চেষ্টা করেও অঙ্গদানে রাজি করানো যায়নি জানিয়ে বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা এ ধরনের দুই একটি রোগীর ক্ষেত্রে সফল হতে গিয়েও অঙ্গদানে রাজি করাতে পারিনি। কিন্তু আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা সফল হয়েছি। বাংলাদেশের চিকিৎসা শাস্ত্রের জগতে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছি। এজন্য আমি বিএসএমএমইউর কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সেলের প্রধান, ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল ও তার টিমকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।

যে চারজন রোগীর শরীরে মৃত সারার অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সবার অবস্থা উন্নতির দিকে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন অপারেশনে নেতৃত্বদানকারী ইউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল।

এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত