স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি চিকিৎসায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ: বিএসএমএমইউ ভিসি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি চিকিৎসায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ, প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
আজ শনিবার (৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এতে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি আক্রান্ত পরিবারে তার চিকিৎসা করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার। তার জন্য গবেষণা ও সচেতনতা দরকার। সচেতনতার জন্য গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ফেইল সুইসাইডের কারণে মানুষ স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি বেশি হচ্ছে। এজন্য এটি রোধে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হবে। এ ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে গাছ থেকে পড়ে অনেকেই স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে পড়ছেন। এজন্য গ্রামে গাছে উঠার জন্য প্রশিক্ষণ দরকার। এজন্য একটি ব্যবস্থা করা যায় কি সে বিষয়ে নীতি নির্ধারকরা মনোবিশেষ করতে পারে। পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি স্পাইনাল কর্ডে আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য বলা যাবে না যে, মেয়েরা কম আক্রান্ত হচ্ছে। নারীদের স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি আক্রান্ত প্রতিরোধে ওড়না পরে রাস্তা পারাপার, মোটর বাইক ও রিক্সায় চলাচল করার সময় অধিক সচেতনা প্রয়োজন। কারণ অনেক নারী রাস্তায় চলাচল করার সময় রিক্সা ও মোটর বাইকে ওড়না পেচিয়ে স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে পড়েন।
বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে পড়া রোগীদের চিকিৎসায় বিভাগীয় পর্যায়ে আলাদা চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসকরা যাতে এসব হাসপাতালে ঠিকমতো কর্তব্য পালন করতে পারেন। এজন্য তাদের আবাস স্থান সুনিশ্চিত করতে হবে। এতে করে রোগীর পাশাপাশি তার পরিবারকে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যাবে ।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বিএসএমএমইউর সার্জারি অনুষদের ডিন স্পাইন নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির প্রধান কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা যাতে না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো উচ্চতা গাছ ও বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া। এসব প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা। যেমন ট্রাফিক আইন মেনে চলা, ড্রাইভারকে সচেতন করা আবশ্যক। স্কুল বাচ্চাদের ভারী ব্যাগ বহন না করা। স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে পড়া রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রধান গবেষক হিসেবে ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. তসলিম উদ্দিন এই গবেষণার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনা করে একজন স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা গল্পের আকারে তুলে ধরেন।
এতে সভাপত্বি করেন ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ সালেক। মডারেটর ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মসিউর রহমান খসরু।
সেমিনারে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো- স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তিদের কার্যকারিতা, স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলি বর্ণনা ও রোগীদের এই অবস্থা নিয়ে বেঁচে থাকার অর্থ কী তার মূল্যায়ন। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক স্বাস্থ্য এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা, মেরুদণ্ডের আঘাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনকে উন্নত করতে সমাজ কী করতে পারে সে সম্পর্কে এই গবেষণার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই গবেষণার ফলাফলগুলি নীতি নির্ধারকদের স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুস্থতার জন্য নীতি সংস্কার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, ডিজিএইচএসের পরিচালক (এমআইএস) অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া এ গবেষণার কো-অর্ডিনেটর ও কো ইনভেস্টিগেটর ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. তরিকুল ইসলাম গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপনা করেন। বানস্কি স্টাডি গ্রুপের রিসার্চ অ্যাসিট্যান্ট ডা. আনিকা তাসনিম গবেষণার তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি তুলে ধরেন।