দেশে মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভোগে ৩৫ শতাংশ মানুষ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি বা মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত রোগে আক্রান্ত। স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি: বাংলাদেশ পারেসপেক্টি প্রাইমেরি রেজাল্ট ডিসিমিনেশন’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
আজ শনিবার (৭ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক অনুষ্ঠানে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি (বান্সকি) ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশের ১৮টি ইনস্টিটিউট ও প্রাইভেট চেম্বার থেকে মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত রোগীদের মধ্যে মোট ২ হাজার ৪৬৯ জনের ওপর এ গবেষণা করে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিএসএমএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. তসলিম উদ্দিন।
গবেষণায় বলা হয়, মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ৩৫ শতাংশ রোগীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। অর্থাৎ কর্মক্ষম সময়ে তারা অক্ষম হয়ে পড়ছেন। রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জন (৫৭ দশমিক ১ শতাংশ) আঘাতজনিত, ১ হাজার ১৪ জন (৪১ দশমিক ১) রোগ সম্পর্কিত ও ৪৬ জন (১ দশমিক ৯) কড়া ইকুইনা সিন্ড্রোমে আক্রান্ত।
মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত রোগ-সম্পর্কিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৪২ দশমিক ৫ শতাংশ) ছিল অবক্ষয়। এরপর টিউমার ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ ও যক্ষায় আক্রান্ত ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। আঘাতজনিত স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৪৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ) ছিল উপর থেকে পড়ে যাওয়া। এরপর সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বেশিরভাগ আঘাতমূলক স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির সঙ্গে ছিল মাথার আঘাত এবং হাত-পা হাড়ের ফ্র্যাকচার। সবচেয়ে বেশি (৭ দশমিক ৩) জটিলতা ছিল অন্ত্রের মূত্রাশয় ও চাপের আঘাতজনিত জটিলতা ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউ’র ভাইসচ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ সালেকের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন স্পাইনাল নিউরোসার্জন ও সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনের খুবই মূল্যবান কর্মক্ষম সময়ে এ রোগ হয় এবং ভুক্তভোগী ব্যক্তির পারিবারিক ও সামাজিক জীবন অর্থহীন হয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর বিশ্বে আড়াই লাখ থেকে ৫ লাখ মানুষ মেরুদণ্ডের আঘাত বা রোগজনিত সমস্যায় ভোগেন।
এ ফলাফল সামনে রেখে জানুয়ারি ২০২৩ থেকে গবেষণার দ্বিতীয় পর্বের জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে গবেষণা শুরু হবে। সেখান থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক জীবন বৃত্তান্ত আমাদের এ গবেষণার মাধ্যমে তুলে আনা হবে।
এসএস