আবদুল হামিদ মেডিকেলের ডা. মীর্জা কাউসারকে অপহরণের অভিযোগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মীর্জা কাউসারকে (২৮) অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের খরমপট্টি এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা ডা. কাওসার ছিলেন আবদুল হামিদের ০২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। স্বাস্থ্যসেবার সনদ গ্রহণের পর গত ২/৩ বছর ধরে ফার্মাকোলজি’র লেকচারার হিসেবে সেখানেই কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
জেলার বাজিতপুর উপজেলার উজানচরের সন্তান ডা. কাউসার কিশোরগঞ্জ শহরে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন।
জানতে চাইলে আবদুল হামিদ মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. আ. ন. ম. নওশাদ খানের ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুহুল আমীন আজ রোববার (১৩ নভেম্বর) সকালে মেডিভয়েসকে জানান, ডা. মীর্জা কাওসারকে ৬/৭ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জ শহরে শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
তার কোনো সন্ধান পাওয়া গেল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সদর থানাকে অবহিত করা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যাব) কাছেও তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির তথ্য নেই।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৭টায় ৬/৭ সাতজন ব্যক্তি ওই মেডিক্স কোচিং সেন্টারে ঢুকে শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলে পরিচয় দেয়। এ সময় কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর কথা বলে ডা. কাউসার নিচে নামিয়ে নিয়ে আসে তারা। সেখানে একটি নোহা গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা চালায় তারা। ডা. কাউসার উঠতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে উদ্ধারের জন্য চিৎকার করে উঠেন। পরে তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
চিৎকারে একই মেডিকেলে তাঁর সহকর্মী কমিউনিটি মেডিসিনের লেকচারার ডা. সুমন এগিয়ে আসেন, যিনি ওই কোচিং সেন্টারেও সম্পৃক্ত। কিন্তু তার আগেই স্থান ত্যাগ করে গাড়িটি।
তিনি আরও বলেন, অপহরণকারীরা সাধারণ পোশাকে ছিল। তাদের সবার বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব হবে। ডা. কাউসারকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় মার্কেটের একজন লোক পেছন থেকে তাদের অনুসরণ করেন। পাকুন্দিয়া পর্যন্ত তিনি তাদের পিছে পিছে যান। কিন্তু একাকী হওয়ায় এক পর্যায়ে আর অগ্রসর হওয়ার সাহস পাননি।
রুহুল আমীন জানান, ডা. কাউসারকে বহনকারী গাড়িটি কাপাসিয়া হয়ে ঢাকায় ঢুকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।