স্বীকৃতি নয়, ভালো কাজগুলো করে যাওয়াই লক্ষ্য
কয়েক মাস আগেও আমার ভালো কাজের স্বীকৃতি অথবা যা আমার প্রাপ্য তা না পেলে ভীষণ মন খারাপ হতো। আমার চারপাশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমার আক্ষেপ বা কষ্ট অনেক কমিয়ে দিয়েছে। আমার ভেতরের 'আমিটা’ এখন বারবার আমাকে বলতে থাকে ‘স্বীকৃতি বা পুরস্কারের আশায় কোনো ভালো কাজ করো না, অহংকার করো না। চেনা-অচেনা যেই হোক না কেন, তোমার দ্বারে আসলে তুমি ফিরিও না।’
আমার চারপাশের কিছু ঘটনা আমার মধ্যে এই পরিবর্তন আনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
প্রথমত প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম একেবারে নিভৃতচারী হয়ে বিনা পয়সায় ১০০০ মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র মূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
ভালো ব্র্যান্ডের গাড়ি কেনার জন্য জমানো টাকা দিয়ে তিনি কিডনি ডায়ালাইসিসের অত্যাধুনিক মেশিন কিনেছেন। তাঁর এই মানব কল্যাণমূলক কাজের খবরটি সরকার অবগত হলে তাঁকে সম্মানজনক 'স্বাধীনতা পুরস্কার' দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তিনি এই পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। বলেন, ‘এখনই যদি সবকিছু পেয়ে যাই, পরকালের জন্য তো আর কিছু বাকী থাকবে না।’
পরে বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য তাঁকে ডেকে আনা হয়। এই ঘটনাটি আমার মনে দারুণ এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ভেবেছি, তিনি যদি এত বিশাল কাজ করেও ‘আমি তেমন কিছুই করিনি’, ‘পারবো না কেন?’ বলে স্বীকৃতি পাওয়ার লোভকে সংবরণ করতে পারেন, তাহলে আমি কেন প্রত্যাশায় থাকবো?
দ্বিতীয়ত স্কুলের বন্ধু গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. চেমন আরা বেগম কেয়ার মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। কীসের অভাব ছিল ওর? রূপ-গুণ, অর্থ-সম্পদ, কথা-বার্তা ও মানবিকতায় সব কিছুতেই ও ছিল সেরা। অথচ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে ও চলে গেল না ফেরার দেশে। মারা যাওয়ার ঠিক আগের দিন ও বাংলাদেশ থেকে ওমানে গিয়েছিল।
যখন ওর মৃত্যু সংবাদ শুনি, তখনও ফেইসবুক স্টোরিতে দেওয়া ওর প্রাণবন্ত ছবিটা জ্বলজ্বল করছিল।
ওর মৃত্যুর পর থেকে বারবার মনে হয়, স্বীকৃতি বা পুরস্কারের লোভ না করে, ভালো কাজের সুযোগ আসলে তা করে নেই। কারণ যে কোনো সময়, যে কোনো মুহূর্তে ডাক আসতে পারে। আমার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত অ্যাসাইনমেন্টগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করাই হচ্ছে এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য।
আল্লাহ বন্ধু কেয়াকে জান্নাতবাসী করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দিন। আমীন।