২৭ অক্টোবর, ২০২২ ০৫:১৫ পিএম

‘গবেষণার ধারা ব্যাহত হলে দেশ পিছিয়ে যাবে’

‘গবেষণার ধারা ব্যাহত হলে দেশ পিছিয়ে যাবে’
বিএসএমএমএমইউ ভিসি বলেন, রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গবেষণার বিকল্প নাই।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিতে গবেষণার বিকল্প নেই। গবেষণার ধারা অব্যাহত না রাখতে পারলে দেশ পিছিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াফেস ওসমান বলেন,‘ ডিজিটাল বাংলাদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিতে গবেষণার বিকল্প নাই। তরুণ চিকিৎসকরা গবেষণার মাধ্যমে উন্নয়ন ও অগ্রগতি দিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’ 

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গবেষণার বিকল্প নাই। শুধুমাত্র ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করতে পারলে বছরে এক লাখ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। বিএসএমএমইউয়ে গবেষণা কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে উপাচার্য এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, চিকিৎসকদের মাঝে গবেষণার করার জন্য আগ্রহ ও উৎসাহের দিক দিয়ে নতুন জোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা পূরণে গবেষণা খাতে বছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। ইতোমধ্যে গবেষণাখাতে বরাদ্দ পাঁচগুণ বৃদ্ধি করে চার কোটি থেকে ২২ কোটি ৪০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়াও গবেষণা কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য চলতি শিক্ষাবর্ষে এই প্রথম একসঙ্গে ২৪ গবেষক চিকিৎসককে পিএইচডি কোর্সে এনরোলমেন্ট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদানকৃত সমন্বিত গবেষণা পুরস্কারের ২০ শতাংশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা অর্জন করেছে বলে জানা ভিসি। 

বিএসএমএমইউ ভিসি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের যে পরিমাণ ফসল হতো, তা দিয়ে সাত কোটি মানুষ চলতো। বর্তমানে সেই একই জমির ফসল ১৭ কোটি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা হয়।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই কৃষি গবেষণায় উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে খাদ্যে উদ্বৃত্ত হয়। এ থেকেই অনুধাবন করা যায় গবেষণার মাধ্যমে অসাধ্যকে সাধন করা যায়।’ 

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম বলেন, বিশ্বমানের চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পক্ষ থেকে যথা সম্ভব সহায়তা প্রদান করা হবে। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিচার্স কাউন্সিল (বিএমআরসি) ও কমিউনিটি ক্লিনিক সহায়তা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। তিনি বলেন, ‘গবেষেণা মানে শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়। এর সাথে সামাজিক গবেষণাও এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিজ্ঞানকে জনগণের কল্যাণে নিতে হবে। এবং জনগণকে এটা বুঝতে হবে কেন গবেষণা করা দরকার। এই গবেষণাকে জনগণের কাছে নিতে হবে। এজন্য ল্যাবরেটরি ও জনগণ লাগবে। সবাইকে নিয়ে গবেষণা করতে হবে এবং গবেষণার একটি কো-অর্ডিনেটর হবে। গবেষণায় ইথিক্যাল পার্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই গবেষণার ক্ষেত্রে ইথিক্যাল মানদন্ড বজায় রাখতে হবে।  

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনে (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন বলেন, গবেষণার মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। 

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর গবেষণা ও উন্নয়ন অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে। গবেষণা দিবস পালনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। বিএসএমএমইউ ২০২২-এর গবেষণার সম্পর্কিত শিক্ষক ও ছাত্রদের গবেষণা সম্পর্কে সম্যক ধারণা তুলতে সক্ষম হবে। একইসাথে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ সম্পর্কে  আলোকপাত করবেন এবং চিকিৎসা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকান্ড তুলে ধরবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত গবেষক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কর্ম থেকে যেমন অনুপ্রাণিত হবেন, তেমনি দেশের অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দরা চিকিৎসা গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হবে।

অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএসএমএমইউর চতুর্থ গবেষণা দিবসের উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব উপ-রেজিস্ট্রার সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহজাবিন হক।

এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে, সকাল ৮টায়  বি ব্লকে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিদেবন, সোয়া ৮টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের সামনে থেকে শুরু হয়ে বটতলা, টিএসসি, এ-ব্লক ডি-ব্লক, সি-ব্লক প্রদক্ষিণ করে কেবিন ব্লকে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টা হতে শহীদ ডা. মিলন হলে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশনে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক গবেষকগণ। বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে ১০টি ওরাল প্রেজেন্টেশন এবং ২০টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন করা হয়। সকাল ১০টায় শহীদ ডা. মিল্টন হলে মিট দ্যা প্রেস ও ১১ টায় শহীদ ডা. মিলন হলে গবেষণা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর উন্নতমানের শ্রেষ্ঠ গবেষণার জন্য কয়েকশত গবেষকদের মাঝ থেকে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, মেডিকেল অফিসারসহ ১৬ জনকে গবেষণা পদক বা রিসার্চ এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এদিকে মিট দ্যা প্রেসে নিম্নোক্ত গবেষণাগুলো সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়

বিএসএমএমইউ'র কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ তার গবেষণা-বাংলাদেশের শহরে ও গ্রামীণ জনসংখ্যার মধ্যে করোনারি হার্টের রোগের ব্যাপকতা এবং ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে তুলনা একটি জনসংখ্যা ভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায় করোনারি আর্টারি ডিজিজের প্রাদুর্ভাব ছিল গ্রামীণ এলাকায় ০.৬৫% এবং শহুরে এলাকায় ২.৭৯%। গ্রামীণ এবং শহরের জনসংখ্যার মধ্যে করোনারি আর্টারি ডিজিজের ব্যাপকতার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল। সিস্টোলিক রক্তচাপের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক গ্লুকোজ প্রোফাইল, কোমর-নিতম্বের ঘেরের অনুপাত এবং এলডিএল কোলেস্টেরল এবং শহরে জনসংখ্যার কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনধারা এর কারণ হিসেবে গবেষণায় উঠে আসে।

অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লায়লা আরজুমান্দ বানু তার একটি গবেষণা হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথিতে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি রোগীদের-বিটা মায়োসিন হেভি চেইন (B-MHC) জিনের প্রকরণ চিহ্নিত করণ ও মিউটেশনাল বিশ্লেষণ গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন বিএমএইচসি জিনে মোট ৩৯টি নিউক্লিওটাইডের ধরণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি মিসসেন্স মিউটেশন পেয়েছেন। যার মধ্যে পাঁচটি ইতোমধ্যে কার্ডিয়াক উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হাইপারট্রফিক কার্ডিওপ্যাথির সাথে সংশ্লিষ্ট। বেশিরভাগ মিউটেশন হেটারোজাইগাস, শুধুমাত্র একটি হোমোজাইগাস অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে তিনি গবেষণায় উল্লেখ করেন।

পাবলিক হেলথ বিভাগের ডা. মারিয়াম সালওয়া তার বাংলাদেশি শিশু- কিশোরদের মধ্যে অনলাইন যৌন নির্যাতন। একটি সমকালীন মিশ্র পদ্ধতির একটি গবেষণায় দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৫৬ জন কিশোর এবং শতকরা ৬৪ জন কিশোরী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। শহুরে শিশুদের মধ্যে ইন্টারনেটে যৌন নিপীড়নের ঘটনা গ্রামীণ শিশুদের চাইতে দেড় গুণেরও বেশি। আবার যে সকল শিশুরা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বেশি ব্যবহার করে এবং যারা ফেসবুক, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং চ্যাটরুম এর মতো যোগাযোগ মাধ্যম বেশি ব্যবহার করে তাদের অনলাইন যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিশু- কিশোরদের অর্ধেকেরও বেশি সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে অবগত নয়। ইন্টারনেটের অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক জ্ঞানকে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এই গবেষণায়। শিক্ষার্থী এবং বিশেষজ্ঞদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী. তিনটি বিষয় প্রতীয়মান হয়- 

১. ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে পিতা-মাতার জ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণের অভাব।
২. যৌন নির্যাতন সম্পর্কিত ঘটনাগুলো চিহ্নিত করা এবং পরিণতি সম্পর্কে ধারণার অভাব। 
৩. যৌন নির্যাতনের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।

একই বিভাগের অধ্যাপক এম আতিকুল হক তার বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা গবেষণায় দেখিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার প্রাদুর্ভাব ছিল (৪৮%) এবং মনস্তাত্ত্বিক সহিংসতা ( ৪৬.৬%) যা শারীরিক সহিংসতা থেকে বেশি (৫%), যৌন নির্যাতন (১৯%)। উচ্চ প্রাদুর্ভাব (৪৮%) হওয়া সত্ত্বেও সহিংসতার রিপোর্টের হার উল্লেখযোগভাবে কম ছিল (২৭. ৮%)। এই সমীক্ষাটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের (HCWs) মধ্যে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার উচ্চ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার যথাযথ তদন্ত করা এবং ভবিষ্যতে এটার ঘটনা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএসএমএমইউর পেডোডন্টিকস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জেবুন নেছা তাঁর অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিক (ALL) শিশুদের মুখবরের মৌলিক পরিচ্ছন্নতা ও ফ্লোরাইড প্রয়োগের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গবেষণায় দেখা যায়, ALL শিশুদের মুখ মৌলিক পরিচ্ছন্নতা ও ফ্লোরাইড প্রয়োগের মাধ্যমে ৭৪% কেইসই কেরিজ প্রতিরোধ করা সক্ষম হয়েছে এবং বাকি ২৬% কেইসের ক্ষেত্রের কোন উন্নতি বা পরিবর্তন দেখা যায় নি এবং দুটি পার্থক্য পরিসংখ্যান গতভাবে তাৎপর্য পূর্ণ।

ডা. আহমেদ নাজমুল আনাম তার কনজেনিটাল হাট ডিজিসেসের সাথে পালমোনারি হাইপারটেশন চিকিৎসায় মনোথেরাপি এবং কম্বিনেশন থেরাপির তুলনামুলক পার্থক্য গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যাদের জন্মগত হৃদরোগ ডিএসডি রয়েছে তাদের পালমোনারি আর্টারিয়াল হাইপারটেনশন এর প্রবণতা বেশি এবং পালমোনারি আর্টারিয়াল হাইপারটেনশন চিকিৎসায় বয়স কিংবা লিঙ্গ ভেদে মনোথেরাপি। সিলডেনাফিল কিংবা কম্বাইন্ড থেরাপি / সিলডেনাফিল + বুসেন্টান এ পরিসংখ্যানগত কোনো তাৎপর্য নেই।

পেডিয়াট্রিক হেমাটো অনকোলজি বিভাগের ডা. জামিল তার অ্যাকিউট লিম্ফোরস্টিক লিউকেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের ডায়রিয়ার জন্য প্রফাইল্যাকটিক প্রোবায়োটিক এর ভূমিকা গবেষণায় দেখা যায়, পর্যবেক্ষণে ডায়রিয়া পাওয়া গেছে গ্রুপ এতে ১৪ (৩৫%) বনাম ১৯ (৪৭.৫%) গ্রুপ বি‘তে এবং দুটি গ্রুপের প্রফাইল্যাকটিক প্রোবায়োটিকের ভূমিকার পার্থক্য পরিসংখ্যান গতভাবে তাৎপর্য পূর্ণ ছিল না।

ফার্মাকলজি বিভাগের ডা. ফাতেমা এরশাদ তার অটিজম এপেক্ট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের উপর উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই-৬ ও ম্যাগনেসিয়াম এর স্নায়ু আচরণগত এবং জৈব রাসায়নিক প্রভাব; একটি রেন্ডোমাইজড, ডাবল রাইন্ড এবং প্লাসিবো নিয়ন্ত্রিত গবেষণার চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ‘বি’ সিক্স সাথে ম্যাগনেসিয়াম পেয়েছে। তাদের প্রস্রাবে হোমো ভ্যানিলিক এসিড এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা থেরাপি দেয়ার আগে যা ছিল চিকিৎসা দেওয়ার পরে তার মাত্রা অনেক কমে গিয়েছে এবং সেই সাথে প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ শিশুদের যায় আচরণগত উপসর্গের নিরাময়ে উন্নতি সাধিত হয়েছে। ওই তুলনায় যারা শুধু প্রেসেবো থেরাপি পেয়েছিল।

নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আসিফুর রহমান তার গবেষণাটি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক কিয়ারি ম্যালফর্মেশন ১-এর চিকিৎসায় স্টেথ ক্রেনিওপ্লান্টি এবং ডুরাপ্লান্টিসহ বা ছাড়া পোস্টেরিওর ফোসা ডিকম্প্রেশনেরর রেডিওলজিক্যাল ফলাফল: পরিমাপ পদ্ধতির একটি অনন্য চিন্তা বিকাশ। এই গবেষণায় শৈল্য চিকিৎসা পরবর্তী রেডিওলজিক্যাল ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে উৎসাহজনকভাবে স্টেথ জেনিওপ্লাস্টি বিভাগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। 

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি বিশ্বাস করেন যে, তিনি যে পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং বর্ণনা করেছেন তা ভবিষ্যতে কিয়ারি ম্যালফর্মেশন ১ এর উপর পরিচালিত গবেষণায় এবং রোগী ব্যবস্থাপনা কৌশলের অন্তদৃষ্টি দানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত