মানবদেহে প্রথম কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশনের ঘটনা
১৯২৯ সাল। ডা. ওয়েনার ফার্সম্যান ২৫ বছরের টগবগে তরুণ। জার্মানির বার্লিনের একটি ছোট্ট হাসপাতালের সার্জারির রেসিডেন্ট তিনি। একদিন হাসপাতালে তিনি তার স্যারকে বললেন, স্যার আমরা যদি রক্তনালী দিয়ে হার্টে একটা ক্যাথেটার ঢুকিয়ে দিই, তাহলে হার্টে সরসরি ওষুধ দিতে পারবো কিংবা হার্টের রক্তচাপ মাপতে পারবো। তাই না স্যার? বেচারা রেসিডেন্টের এমন সুন্দর কিন্তু অদ্ভুত চিন্তাকে কোন পাত্তাই দিলেন না শিক্ষক। বরং কিছুটা বিরক্ত হলেন।
এদিকে স্যারের কাছ থেকে কোন সবুজ সংকেত না পেয়ে নিজে নিজেই কাজে নেমে পড়লেন। গবেষণার বিষয় হিসেবে নিজেকেই বেছে নিলেন। ওটির নার্সিং ইনচার্জ গার্ডা ডিটজেনকে প্ররোচিত করলেন কিছু স্টেরাইল ইন্সট্রুমেন্ট দেয়ার জন্য। নার্সের শর্ত হল-ইনট্রুমেন্ট ম্যানেজ করে দিবো, তবে ক্যাথেটার নার্সের শরীরে প্রবেশ করাতে হবে। ডা. ফর্সম্যান রাজি হলেন।
অপারেশন থিয়েটরে (ওটি) টেবিলে নার্সকে শুইয়ে দিয়ে লোকাল এনেস্থিসিয়াও দিলেন ডা. ফর্সম্যান। তবে ৬৫ সে.মি. লম্বা ক্যাথেটারটি নিজের (ফর্সম্যানের) শরীরের এন্টিকিউবিটাল ভেইন দিয়ে প্রবেশ করালেন। এরপর হেঁটে হেঁটে একতলা নিচে গিয়ে এক্সরে করে নিশ্চিত হলেন ক্যাথেটার রাইট এট্রিয়াম প্রবেশ করেছে কিনা। আশ্চর্যজনকভাবে ডা. ফর্সম্যান প্রথমবারেই কোন ধরনের জটিলতা ছাড়া সফলভাবে কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন সম্পন্ন করেছেন। এটাই ছিলো মানব শরীরে কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন এর প্রথম ঘটনা।
এ ঘটনা যখন জানাজানি হলো। তখন প্রধান চিকিৎসকের অনুমতি না নিয়ে এহেন অপকর্মের জন্য তাকে রেসিডেন্সি থেকে বাদ দেওয়া হলো। তার এ প্রসিডিওর বেপরোয়া ও আত্মঘাতী হিসেবে চিহ্নিত হলো। এমনকি এ প্রসিডিউর বর্ণনা করে তিনি যে আর্টিকেল তৈরি করেছেন, সেটিও বাতিল হলো।
দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে তার এ প্রসিডিউর সিনিয়রদের দ্বারা স্বীকৃতি পায় ১৯৫৬ সালে। এ কাজের জন্য নোবেল পুরষ্কারও জিতে নিয়েছেন ডা.ফর্সম্যান।
নতুনকে গ্রহণ করতে সবাই ভয় পায়। অথচ যুগে যুগে এমন কিছু মেধাবী জন্মায়, যারা নতুন কিছু আবিষ্কারের মাঝেই সুখ খুঁজে পায় এবং এটাই সত্য। কেউ কেউ একটু ভিন্ন পথে না হাটলে; মানব সভ্যতা অনেক বড় বড় আবিষ্কার থেকে বঞ্চিত হত। একজন সার্জারি রেসিডেন্টের এত বড় আবিষ্কারের গল্প শুনে নিজেকে সার্জারি রেসিডেন্ট হিসেবে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
এএইচ