ক্যারিঅন পদ্ধতি, ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’
মেভিভয়েস রিপোর্ট: ক্যারিঅন বাতিল ও সিজিপিএ চালুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় মিছিল নিয়ে খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গা মজিদ সরণি প্রদক্ষিণ করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) প্রদত্ত কারিকুলাম সংস্কারের দাবি জানায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘বহাল চাই বহাল চাই, ক্যারিঅন বহাল চাই,’ ‘বাতিল চাই বাতিল চাই, সিজিপিএ বাতিল চাই,’ ‘না দিলে ক্যারিঅন, শুরু হবে অনশন।’
শিক্ষার্থীরা জানান, ‘মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থায় এমনিতেই বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়। সেখানে নতুন এই নিয়ম শিক্ষার্থীদের উপর ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ ছাড়া আর কিছুই নয়। ক্যারিঅন কোনো দাবি নয়, এটা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার।’
বিএমডিসি কর্তৃপক্ষ এই অধিকার হরণ করতে চাচ্ছে জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ক্যারিঅন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাত বছর আগেও বিএমডিসি এমন অমানবিক পদ্ধতি চালু করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের অগ্রজেরা সেটা রুখে দিয়েছিলেন। আজ আমরা আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখছি। আমরা চাই অবিলম্বে ক্যারিঅন স্থায়ীভাবে পুনর্বহাল করা হোক এবং সিজিপিএ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হোক।’
একই দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে বিষয়টি সুরাহ করতে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএমডিসি। ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় বিএমডিসির সামনে বিক্ষোভ করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, মুগদা মেডিকেল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবি, নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন হওয়া শুরু হলে চিকিৎসক-মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য ও হতাশা বেড়ে যাবে। এ সময় সিজিপিএ পদ্ধতি বাতিল ও ক্যারিঅন চালু রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, জিপিএ পদ্ধতি চালু হলে শ্রেণি বৈষম্য বেড়ে যাবে। অনেকেই পরীক্ষায় হয় তো ‘বি’ বা ‘সি’ গ্রেড পাবে। ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়বে ক্যারিয়ারে।
মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিশ্বের সাথে তাল মেলার যুক্তি দেখিয়ে এ নতুন কারিকুলাম করেছে বিএমডিসি। কিন্তু বৈশ্বিক সিস্টেম হলো সেমিস্টার পদ্ধতি, এখানে আমাদের দেশে হলো প্রফ সিস্টেম। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে হলে পুরোটা চালু করা হোক, কিন্তু তা করা হবে না। নতুন চালু হওয়া কারিকুলামে আমাদের ভোগান্তি বাড়বে।’
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত স্যার এমবিবিএস পাস করেছেন ১১ বছরে। সেই প্রাণ গোপাল স্যারকে যদি সিজিএ চাপিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে আমরা তাকে পেতাম না। কারণ অনেকেই বলতো, আপনি বি ও সি পেয়ে পাস করেছেন। সিজিপিএ চালু করে আমরা অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারাতে চাই না। পাস আর ফেইল পদ্ধতিই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুন্দর।’
এ বিষয়ে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লিয়াকত হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের কিছু শঙ্কা ও সংশয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। তাদের সেই দাবিগুলো যদি যৌক্তিক হয়, অবশ্যই সেটা পরবর্তী কাউন্সিল বৈঠকে বিবেচনা করা হবে।’