০৪ অগাস্ট, ২০২২ ০১:৩১ পিএম

আইসিইউ থেকে কেবিনে ডা. ইমরান, এখনও অকার্যকর ডান পাশের কিডনি

আইসিইউ থেকে কেবিনে ডা. ইমরান, এখনও অকার্যকর ডান পাশের কিডনি
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক কথা বলতে পারছেন ডা. ইমরান।

আসাদুল ইসলাম দুলাল: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডা. ইমরান হোসেন মালিথাকে দেড় মাস পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক কথা বলতে পারছেন তিনি। তার প্লাস্টিক সার্জারি অপারেশন করা হয়েছে। করাতে হবে কোলোস্টমি অপারেশন। তবে কিডনিজনিত জটিল সমস্যা রয়েছে। তার স্বাস্থ্যের উন্নতির স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকলে পরিপূর্ণ সুস্থ হতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে। আর কিডনির অবস্থা জটিল কিছু হলে, সেক্ষেত্রে ছয় মাসের বেশি সময় লাগতে পারে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) ডা. ইমরানের ব্যাচমেট ও দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকর্মী ডা. তাহিদুল ইসলাম রনি ইউএইচএফপিও ডা. মোছা. মাহবুবা খাতুনের নির্দেশনায় সার্বক্ষণিকভাবে গুরুতর আহত এ চিকিৎসকের খোঁজ-খবর রাখছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) রোগীর সার্বিক অবস্থার তথ্য জানিয়ে ডা. তাহিদুল ইসলাম রনি মেডিভয়েসকে বলেন, বর্তমানে ডা. ইমরান সবার সাথে স্বাভাবিক কথা বলতে পারেন। এখনো ইবনে সিনাতে চিকিৎসাধীন আছেন। ১৫ দিন আগে তাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে। তাকে প্রায় এক মাস ১২ দিন পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্লাস্টিক সার্জারি সম্পন্ন

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ডা. রনি জানান, ২০ দিন আগে ডা. ইমরানের প্লাস্টিক সার্জারি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পায়ের থাইয়ের সাথে পেটটা লাগানো অবস্থায় রয়েছে। এজন্য স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারছেন না। যদি সম্পূর্ণ ভালো থাকে, তাহলে ২৮ দিন পর রিলিজ করা হবে। এরপরে সে স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারবে। কিন্তু সবচেয়ে জটিল বিষয়টা হলো, তার ডান পাশের কিডনিটা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। গতকাল সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কিডনিটা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। তার কোলোস্টমি অর্থাৎ পায়খানার রাস্তা পুরোপুরি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত কিডনির কোনো চিকিৎসা করতে পারবে না। কোলোস্টমি করা আছে, এর অস্ত্রোপচার তিন মাস পর করা হবে। কিডনির বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা করা হয়নি। কোলোস্টমি অপারেশনের পর এ বিষয়ে বলা যাবে।

চিকিৎসা খরচ

চিকিৎসায় খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে এই চিকিৎসক জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালের বিল হয়েছে মোট ২৮ লাখ টাকা। অন্যান্য বাইরের খরচ হয়েছে আট লাখের মতো। এ নিয়ে মোট ৩৬ লাখের মতো খরচ হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের ৯ লাখ টাকা বাকি রয়েছে। এই মুহূর্তে ছুটি হলেও লাগবে ১০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে তিনি জানান, এর আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে যে টাকা কালেকশন হয়েছে, ওই টাকা রয়েছে। পরে অন্য দুটি জায়গা থেকে কিছু কালেকশন হয়েছে। সেখান থেকে কিছু টাকা হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। আর পরিবারের টাকাটা এখন রয়েছে। হাসপাতাল থেকে কিছু টাকা ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কত টাকা ছাড় দিবে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখন ১০ লাখ টাকার মতো জমা রয়েছে, এর মধ্যে হাসপাতালের বিল বাবদ ৯ লাখ টাকা দিতে হবে। যদি আরও সপ্তাহ খানেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলে, ১০ লাখ টাকায় খরচ হবে। যদি হাসপাতাল থেকে কিছু টাকা ছাড় পাওয়া যায়, তাহলে কিছু টাকা থাকবে।

পরিপূর্ণ সুস্থ হতে কতদিন সময় লাগবে জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, কোলোস্টমি করতে আর তিন মাস সময় লাগবে। অর্থাৎ তিন মাস পর একটি অপারেশন হবে। এরপর কিডনির বিষয়টা দেখা হবে। এজন্য সর্বনিম্ন ছয় মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। স্বাভাবিকভাবে সব কিছু হলে, কমপক্ষে ছয় মাস লাগবে। আর কিডনির বিষয়টা জটিল কিছু হলে ছয় মাসের বেশি সময় লাগবে।

আর্থিক অনুদান

স্বাস্থ্য বিভাগের আর্থিক অনুদানের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. রনি জানান, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. শাফিউর রহমান ডা. ইমরান মালিথার খোঁজ নিতে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন এবং আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে আমরা কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। একটি দরখাস্ত দিতে বলেছিলেন। আমরা দরখাস্ত দিয়েছিলাম, কিন্তু সেটি সঠিক ঠিকানায় পৌঁছেছে কিনা জানি না। বর্তমানে যেসব আর্থিক সহযোগিতা আসছে, সেটা আমরা ব্যক্তিগতভাবে কালেকশন করেছি ও পরিবার থেকে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে কোনো আর্থিক অনুদান পায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন সকালে বানেশ্বর বাজার থেকে সিএনজি যোগে নিজ কর্মস্থল দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন ডা. ইমরান হোসেন মালিথা। বাছেরের মোড়ের কাছে মাছ বোঝাই নসিমন গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিএনজি থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন ডা. ইমরান।

পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১২ জুন তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা পর্যন্ত সেখানে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন ডা. ইমরান হোসেন। তিনি ছিলেন রামেকের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের এই কৃতি সন্তান।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি