বন্যার পানি নেমেছে, স্বাভাবিক সিওমেক হাসপাতাল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতাল থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। আজ রোববার (১৯ জুন) গভীর রাত থেকে পানি নামতে থাকে, ভোর নাগাদ জেগে উঠে তলিয়ে যাওয়া নিচতলা ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। ফলে সকাল থেকে হাসাপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। আলো জ্বলে উঠায় চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীসহ হাসপাতালে অবস্থানরত রোগী, স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
কর্তব্যরত একাধিক চিকিৎসক আজ রোববার (১৯ জুন) দুপুরে মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি থেকে ভোরে পানি নেমে গেছে। এরপর হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হয়েছে। এর ফলে সবধরনের চিকিৎসাসেবাও স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এতে চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীসহ অবস্থানরত রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগেরও অবসান হলো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিচতলার কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। বন্যার পানি থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে সরিয়ে নেওয়া বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এখন আবার ঠিক মতো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ব্যবস্থায় ছোট জেনারেটর দিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) অতিগুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি নেমে গেলেও আবার বন্যা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে পানিতে তলিয়ে যায় সিওমেক হাসপাতাল। দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে নিচতলার ওয়ার্ডগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
বিদ্যুতের নিজস্ব ফিডার ও সেন্ট্রাল জেনারেটর পানির নিচে চলে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গোটা হাসপাতালে তৈরি হয় এক ভুতুড়ে পরিবেশ। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় হাসপাতালের অস্ত্রোপচার বিভাগ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটে।
নিচতলায় প্রশাসনিক ব্লক, সার্জারি, নবজাতক শিশুদের বিশেষায়িত ওয়ার্ড স্কেনো, প্যাথলজি বিভাগ, জরুরি বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ, প্রিজন ওয়ার্ড, এমআরআই, সিটি স্ক্যান মেশিন কক্ষেও পানি ঢুকে পড়ে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের প্রায় ১৫০ ব্যাগ রক্ত নষ্ট হয়।