ডা. রাফসান জানির সহায়তায় চলন্ত ট্রেনে সন্তান প্রসব, সুস্থ আছেন মা-নবজাতক
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক চিকিৎসক ও সহকারী সার্জন ডা. রাফসান জানির সহায়তায় জেসমিন আক্তার নামে এক প্রসূতি চলন্ত ট্রেনে সন্তান প্রসব করেছেন। শনিবার (১৮ জুন) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া একতা ট্রেনে নওগাঁর রাণীনগর এলাকায় সন্তান প্রসব হয়।
পরে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তারা জয়পুরহাট স্টেশনে নেমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে নবজাতক ও মা সুস্থ আছেন।
জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাট-নানাহার গ্রামের তহিদুল ইসলাম আনসার বাহিনীতে চাকরি করার সুবাদে এক কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী জেসমিনের প্রসবের তারিখ ছিল আরও ৭ দিন পর। কিন্তু ঢাকায় সহযোগী কেউ না থাকায় ৭ দিন আগেই নিজ জেলায় যাওয়ার জন্য গতকাল সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে জয়পুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন।
ট্রেনটি কমলাপুর থেকে ছেড়ে ঈশ্বরদী আসার পর জেসমিনের প্রসব ব্যথা শুরু হয়। তখন এই দম্পতি পাশের আসনের যাত্রীদের বিষয়টি জানালে তারা পরিচালক ও রেল পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানকে জানান। এসআই মিজান তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনের কয়েকজন নারীকে দিয়ে কৃত্রিম প্রসব কক্ষ তৈরি করেন। এ সময় ওই ট্রেনে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের ডা. রাফসান জানি। তখন তিনি (রাফসান) জয়পুরহাট সদর থানার স্কুলের একজন শিক্ষিকাকে সঙ্গে নিয়ে প্রসব কাজের তদারকি করেন। এ অবস্থায় রানীনগর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছার আগে আগেই ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন জেসমিন।
ডা. রাফসান জানি গণমাধ্যমকে বলেন, জেসমিনের বিষয়টি জানতে পেরে আমি একজন নারী শিক্ষিকাসহ কয়েকজন নারীকে নিয়ে সহযোগিতা করি। ট্রেনে ধারালো কোনও কাঁচি বা ব্লেড না থাকায় রানীনগর স্টেশনে ট্রেন থামার পর ব্লেড সংগ্রহ করে নাড়ি কেটে আলাদা করা হয়। মা ও নবজাতক এখন সুস্থ আছে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জয়পুরহাটে ট্রেনটি বিরতি দেওয়ার সাথে সাথে প্রসূতিকে হুইল চেয়ারে করে নামিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর মা ও শিশুকে সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন।