সরকারি ওষুধ ছিনতাইয়ে বাধা: স্বাস্থ্য সহকারীকে কুপিয়ে জখম
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সরকারি ওষুধ ছিনতাইয়ের সময় বাধা দেওয়ায় সাতক্ষীরার তালায় কামরুল ইসলাম নামে এক স্বাস্থ্য সহকারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ সোমবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার যুগিপুকুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও (ভারপ্রাপ্ত) ডা. তানজিমা তাবাসসুম বিকেলে মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘কামরুল হাসান সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে দুইজন তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর মাথায় ও হাতে কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আঘাত গুরুতর হলেও এখন শক্তামুক্ত তিনি। কিছুক্ষণ পর আমিও দেখতে যাবো।’
কামরুল ইসলাম তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
ডা. তানজিমা তাবাসসুম আরও জানান, যুগিপুকুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সুবর্ণা বিশ্বাস মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করছেন কামরুল ইসলাম। সকালে স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে চার-পাঁচ সন্ত্রাসী ক্লিনিক থেকে ওষুধ ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। কামরুল বাধা দিলে তাকে দা দিয়ে মাথায়, হাতে ও বুকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। গুরুতর আহত কামরুলকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
সিভিল সার্জন অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কামরুল হাসান আমাদের স্টাফ। তার চিকিৎসাসহ যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমরা তার সবই আমরা করবো। একই সঙ্গে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া বেলালকে আটক করা হয়েছে। সে পাটকেলঘাটার যুগিপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমার স্বাস্থ্য সহকারী কামরুল ইসলামকে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। ঘটনা জানার পরই আমি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলি। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এর ফলও এখন দৃশ্যমান। তারা জানালেন, আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন শুধু একটি এজাহার দায়ের করতে হবে। এ বিষয়ে আমার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএইচএফপিও (ভারপ্রাপ্ত) ডা. তানজিমা তাবাসসুম এজাহার দায়ের করেছেন। আশা করি, আমরা একটি ভালো ফল পাবো। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে সারাদেশে সবার কাছে বার্তা যাবে, সবাই সতর্ক হবে। সবাই স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে।’
এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কর্মস্থলে স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রমণের শিকার হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। মাঠ পর্যায়ে যে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে, তা সব সময় অনুভূত হয়। এ অবস্থা দূর করতে আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তার চেষ্টা করছি। ভাবছি, যদি আনসার সদস্য মোতায়েন করা যায়।’