বিএসএমএমইউতে বিশ্ব টিউবারক্লোসিস দিবসে আলোচনা সভা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিশ্ব টিউবারক্লোসিস (টিবি) দিবস উপলক্ষে র্যালি, বেলুন উড়ানো, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা (গোলটেবিল বৈঠক) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২৮ মার্চ) সকাল ৯টায় বক্ষব্যধি বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লকের সামনে থেকে ‘যক্ষ্মা' নির্মূলে বিনিয়োগ, বাঁচাবে বহু লোক’ এই স্লোগান নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এরপর পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ডি ব্লকের সস্মুখে হাসনা হেনা, কাঁঠালী চাঁপাসহ বিভিন্ন চাড়া রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করা হয়। সবশেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘ইনভেস্ট টু ইন্ড টিবি সেইভ লাইভস’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও বক্ষব্যধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) র্যালি, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রামসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধসহ স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বিরাট অবদান রাখছে। যক্ষ্মা নির্মূলের জন্য এই রোগ নির্ণয়ে স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের শরীরের লেটেন্ট টিবি বা সুপ্ত যক্ষ্মা আছে কিনা তা চিহ্নিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শাসনামলে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষাসহ স্বাস্থ্যখাতে যে বিশাল উন্নয়ন ও সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা তুলে ধরেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসির অধ্যাপক ও অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, যক্ষ্মা বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বছর ভিত্তিক কর্মসূচী নিতে হবে। জনসচেতনতা গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নিজস্ব মূল্যায়নকে কাজে লাগাতে হবে।
সভাপতি বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ ও বক্ষব্যধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, যক্ষ্মার মতো একটি সর্বগ্রাসী মারাত্মক সংক্রামক রোগকে নির্মূল করতে হলে শুধুমাত্র চিকিৎসকের চিকিৎসাই যথেষ্ট নয় বরং প্রয়োজন সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত যক্ষ্মা নির্মূলে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে কঠিনভাবে অঙ্গীকারবন্ধ হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে পূর্ণ উদ্যমে সাফল্যের সাথে এগিয়ে চলেছিল। দুর্ভাগ্যবশত কোভিড-১৯ প্যানডেমিকের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ একটু পিছিয়ে পড়েছে। আমাদের বিশ্বাস সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশ্যই দেশ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা রোগ নির্মূলে সফল হবো।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ সুপ্ত টিভিতে আক্রান্ত আছে। যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নির্মূলে এই আক্রান্ত জনগণকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করে তা সহজলভ্য করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসির অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, বিসিএসআইআর এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ, ফার্মাসিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক, ডিন অধ্যাপক ডা. শিরিন তরফদার, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীবৃন্দসহ প্রমুখ।