১২ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে পৃথক হলো লাবিবা-লামিসা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জোড়া শিশু লাবিবা-লামিসাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথক করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারে দুজনেরই জ্ঞান ফিরেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) সোমবার ১২ ঘণ্টাব্যাপী সফল অস্ত্রোপচারে শিশু দুটিকে আলাদা করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ নভেম্বর জোড়া লাগানো শিশু লাবিবা ও লামিসাকে ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কর্নেল মো. নাজমুল হক মেডিভয়েসকে বলেন, দীর্ঘ দিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর তাদের সোমবার সকাল ৮টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল উল হকের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারে বিভিন্ন বিভাগের ৩৮ জন চিকিৎসক, যেমন: পেডিয়াট্রিক সার্জারি ছাড়াও নিউরোসার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারি, রেডিওলজি, অর্থোপেডিকস সার্জারি, অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।
সফল অস্ত্রোপচারের পর ডা. আশরাফুল হক কাজল বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সফল অস্ত্রোপচারে আমাদের সময় লেগেছে ১২ ঘণ্টা। তিনটি অস্ত্রোপচার তথা পায়ুপথ, স্পাইনাল কর্ড ও মেরুদণ্ডে পৃথক তিনটি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে অস্ত্রোপচারে আমরা সফল হয়েছি। পৃথক করা শিশু দুটিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।’
শিশু দুটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল ডা. মো. নাজমুল হক জানান, ‘শিশু দুটি বর্তমানে ভালো রয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য আইসিউতে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তারা আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে থাকবে। পরে সব ঠিক থাকলে তাদেরকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’
অস্ত্রোপচারপূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে মো. নাজমুল হক বলেন, ‘অনেকদিন যাবৎ চেষ্টা করেছি। আমাদের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এর আগে একটি অপারেশনও করেছি। ফলে এ বিষয়ে এগিয়ে ছিলাম। তারপর তারা (শিশু) একটু পরিপক্ক হওয়ার পর আড়াই মাস পর আরও একটি অপারেশন সম্পন্ন করেছি। এটা দীর্ঘ দিনের একটা কর্ম-পরিকল্পনা। আশা করি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।’
অস্ত্রোপচারের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ব্যতিক্রমধর্মী একটি অপারেশন। বলা যায়, বাংলাদেশ ও চিকিৎসকদের জন্য এটি প্রথম দিকের অপারেশন। আমরা চেষ্টা করছি, চিকিৎসকরা ক্রমাগতভাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রদানের জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেই দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
অস্ত্রোপচারের পর এই মুহূর্তে তাদের কোনো জটিলতা নেই, পরবর্তীতে কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিবে বলেও জানান ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের যদুনাথ পাড়ায় জন্মগ্রহণ করে লাবিবা-লামিসা। তাদের বাবা মো. লালমিয়া একজন নির্মাণশ্রমিক। মাতা মনুফা আক্তার গৃহিণী। তাদের দুই সন্তানের বয়স এখন ২ বছর ১১ মাস। জন্মের ৯ দিন পর ঢামেক হাসপাতালে শিশু দুটিকে নিয়ে এসেছিল তাদের পরিবার। পরে ঢাকা মেডিকেলে তাদের প্রথম দফা অস্ত্রোপচার হয়।