২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ০৪:২৭ পিএম

বুস্টার ডোজে পাঁচগুণ এন্টিবডি: গবেষণা

বুস্টার ডোজে পাঁচগুণ এন্টিবডি: গবেষণা
গবেষণায় বলা হয়েছে, বুস্টার ডোজ দেওয়ার পর মানুষের শরীরে পাঁচ গুণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ছয় মাস পার হলেই উল্লেখযোগ্য হারে অ্যান্টিবডি কমে যায়। তবে বুস্টার ডোজ দেওয়ার পর মানুষের শরীরে পাঁচ গুণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ‘হেপাটোলজিক্যাল প্যারামেটার্স অ্যান্ড এন্টিবডি টাটরি আফটার ভ্যাকসিনেশন সার্চ কোভিড-২’ শীর্ষক গবেষণায়।

আজ বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক হিসেবে ছিলেন তিনি, সহ-গবেষক হিসেবে প্রকল্পটিতে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন বলেন, সময়ের সাথে এন্টিবডির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে যায়, আবার বুস্টার ডোজের মাধ্যমে পুনরায় কোভিডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর প্রথম ধাপে ৯৮ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যারা আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের শরীরে তুলনামূলক বেশি এন্টিবডি পাওয়া গেছে। টিকা নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বুস্টার দেওয়ার পর শতভাগ অংশগ্রহণকারীর শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তাছাড়া রক্তের প্যারামিটারগুলোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ১ মাস পর, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ৬ মাস পর এবং বুস্টার ডোজ নেওয়ার ১ মাস পর শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডির মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ২২৩ জন অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার ১ মাস পর এবং তন্মধ্যে ৩০ জনের দুই ডোজ নেওয়ার ৬ মাস পর ও বুস্টার ডোজ নেওয়ার ১ মাস পর অ্যান্টিবডির মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই স্বাস্থ্য সেবাদানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানিসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। তবে এ ধরনের রোগের কারণে অ্যান্টিবডি তৈরিতে কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। ৪২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী টিকা নেওয়ার পর মৃদু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু রক্ত জমাট বাধা বা অন্য কোনো জটিল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গবেষণাকালীন সময়ে পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, সবকিছু মিলে অ্যান্টিবডি পাঁচগুণ বেড়ে যায় বুস্টার ডোজ দেওয়ার পর। আর এটি সবার নেওয়া উচিত, এটিই ছিল আমাদের মূল কথা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় দশ কোটির বেশি মানুষ টিকার প্রথম ডোজ এবং সাড়ে সাত কোটির বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ এবং ত্রিশ লাখের বেশি মানুষ বুস্টার  ডোজ নিয়েছেন। টিকাদানের উদ্দেশ্য হল মানবদেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করা-যা ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হবার এবং আক্রান্ত হলে রোগের তীব্রতার সম্ভাবনা কমায় বলে পূর্ববতী বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে। 

অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ৪২ কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় মারা গেছেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার মানুষ মারা গেছেন। কোভিড-১৯ বির্যয় প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম চলামান আছে। বাংলাদেশেও ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি চলমান আছে এবং বর্তমানে বুস্টার ডোজে দেওয়া হচ্ছে।  

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক