ডাকাতির শিকার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও
মেডিভয়েস রিপোর্ট: টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে ডাকাত আক্রমণের শিকার হয়েছেন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি বাসে উঠার পরপরই বাসে থাকা যাত্রীবেশে ডাকাতদল তাকেসহ অন্যান্য যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর সারারাত তাকে অন্তত ৮০টি থাপ্পড় মারা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব মেডিভয়েসকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়েছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার পর ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে যাওয়ার বাস না পেয়ে এক বন্ধুকে নিয়ে রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল্লাহপুরে যাই। উদ্দেশ্য ছিল অন্য কোনো বাসে টাঙ্গাইলে যাওয়া। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি বাস পেয়ে উঠে যাই। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বাসটি নির্জন একটা জায়গায় পৌঁছালে সাত-আটজন গলায়, পেটে ছুরি ধরে আমাদের জিম্মি করে। এর মধ্যে কেউ একজন বলে ওঠেন, এ বাসের সবাই ডাকাত। এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি আত্মসমর্পণ করে ওদের বলি, যা আছে নিয়ে যান। কিন্তু কোনো ক্ষতি করবেন না। তারপরেও তারা সারারাত অন্তত ৮০টি থাপ্পড় মারে।’
তিনি বলেন, ‘ আমি শারীরিক ভাবে সুস্থ আছি তবে মানুষিক ভাবে এখনো সেদিন রাতের ভয়াবহতা ভুলতে পারছি না। সেদিন রাতের ভয়াবহতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। মনে হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা আমায় আবার নতুন জীবন দিয়েছেন।’
মামলায় যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘ ইতিমধ্যে এ ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে গিয়েছে। আমাকে উত্তরা এবং যাত্রাবাড়ি থানা ফোন দিয়েছে। হয়তো মামলায় যেতে পারি।’
এছাড়া টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাদিকুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব এখন শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকলেও মানুষিক ভাবে অনেকটা বিপর্যস্থ। তাই আমরা মানুষিক ভাবে যেন সুস্থ থাকে আমরা সে ব্যাপারে নজর রাখছি।
এ ছাড়া ফেসবুক পোস্টে শফিকুল ইসলাম সজিব ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে লিখেছেন, মহাসড়কে চলাচলকারী একটা বাস ১২ ঘণ্টা ধরে ঢাকা শহরে সারারাত ঘুরে ডাকাতি করে, কিন্তু ঢাকা সিটির কোনো চেকপোস্ট সেটি থামায় না, বিষয়টা খুবই ভাবনার। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া রাতে যাতায়াত না করার এবং কাউন্টার ছাড়া অন্য কোনো জায়গা থেকে বাসে না ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এরপর ডাকাত দলের সদস্যরা তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি এটিএম কার্ড, দুটি ওয়ালেট, বিকাশ ও কার্ডের পিন নম্বর নেয়। সেই সঙ্গে তাকে বিকাশ থেকে টাকা দিতেও বাধ্য করে ডাকাত দল।
সবকিছু কেড়ে নিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের চোখ-হাত-পা বেঁধে ফেলে। হাত-পা-চোখ সব বাঁধা থাকায় অ্যাজমা রোগী শফিকুলের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তার ব্যাগ থেকে ডাকাতদের ইনহেলার দিতে বললেও তারা দেয়নি। তখন মৃত্যুভয়ে শফিকুল শুধু কলেমা পড়ছিলেন। তার মনে হচ্ছিল, বাচ্চাদের মুখ বুঝি আর দেখা হলো না।
এর মধ্যে আশপাশের লোকজনের গোঙানির শব্দ আসছিল শফিকুলের কানে। সব নিয়েও নির্যাতন করছিল ডাকাত দল। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চন্দ্রার আগে কবিরপুর এলাকায় শফিকুলের বন্ধুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে দেয় তারা। এরপর শফিকুলকে মারতে মারতে পেছনে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। সারা রাতে অন্তত ৮০টি থাপ্পড় মারা হয়েছে তাকে। ওই বন্ধু পরে শফিকুলের স্বজনদের খবর দেন। একটা সময় বাসটি অনেকক্ষণ থামিয়ে রাখা হয়। এর মধ্যে বাসচালকের হেলপার পরিচয়ে একজন তার চোখ ও হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেন।