২১ অগাস্ট, ২০২১ ০৭:২০ পিএম

প্রগতি ধারার নেতৃত্ব শূন্য করতে ২১ আগস্টের হামলা: বিএসএমএমইউ ভিসি

প্রগতি ধারার নেতৃত্ব শূন্য করতে ২১ আগস্টের হামলা: বিএসএমএমইউ ভিসি
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য করছেন অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের রাজনীতিতে অগ্রগতি ও প্রগতি ধারার নেতৃত্ব শূন্য করতে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। ২১ আগস্টের হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ঘটনা। ভয়াবহ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নেই এটি সম্ভব। এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ন্যায় বিচারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদেরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন।’

আজ শনিবার (২১ আগস্ট) বিএসএমএমইউর ডা. মিলন হলে ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ ও আহতদের স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষায় আলোচনা সভা’য় সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের হত্যা করার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সবাইকে হত্যাকারীরা তখন দেশে না থাকায় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে হত্যা করতে চেয়েও পারেনি। তাই তখনকার খুনি চক্রের উত্তরসুরীরা ২০০৪ এ একুশে আগস্টে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের চক্রান্ত করে। এই ঘৃণ্য হত্যাকারীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরণের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৪ সালে সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারে তার ছেলে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্যে এ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার ধারাবাহিকতায় পরিচালিত। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী জিয়া পরিবারই তখন ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে হাজার হাজার সেনাসদস্যকে হত্যা করে জিয়াউর রহমান এ দেশে হত্যার রাজনীতি শুরু করেন ও খালেদা জিয়া তা অব্যাহত রাখেন।’

জিঘাংসার রাজনীতি উন্নয়ন-অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে হত্যা করে নির্মূল করতে হবে যারা এই রাজনীতি করে, তারা রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত। দুর্বৃত্তায়নের এ রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত।’

‘দেশে সত্যিকার অর্থে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে যারা হত্যা-সন্ত্রাসের রাজনীতি করে, মানুষের ওপর পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে, মানুষকে জিম্মি করার রাজনীতি করে, তাদের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত’, যোগ করেন ড. হাছান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর প্রো-ভিসি ডা. ছায়েফ উদ্দিন আহমদ, বিএসএমএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাসিমা ফেরদৌসী প্রমুখ। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক