‘মাসে চার কোটি ডোজ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে চীনের সিনোফার্মের করোনা ভ্যাকসিন মাসে চার কোটি ডোজ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘সিনোফার্ম ও ইনসেপ্টার কোম্পানির চুক্তির মাধ্যমে দেশে ভ্যাকসিনে সয়ংসম্পূর্ণ হবে। দেশে যতটুকু ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে, ততটুকু অর্ডার দেওয়া হবে।’
আজ সোমবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) মিলনায়তনে দেশে যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনে চীনের সিনোফার্ম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দেশে তিন কোটি ১০ লাখ টিকা এসেছে। এর মধ্যে দুই কোটি দেওয়া হয়েছে। হাতে আছে এক কোটি।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে ভ্যাকসিনে সয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর স্পপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। করোনার শুরু থেকে তিনি আমাদের গাইডলাইন দিয়েছেন। যখন যা লাগবে তিনি তার অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষত ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন প্রদান করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। এ চুক্তির মাধ্যমে একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। দেশে টিকার উৎপাদন শুরু হলে দেশের মানুষকে বেশি বেশি টিকা দেয়া যাবে। সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে যাবে। দেশের অর্থনীতি আরও সচল হবে। করোনা রোগীদের চিকিৎসাদানে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ কমবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বের এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছি। সিনোফার্ম ও ইনসেপ্টার এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব একটি অনন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ও চীন সর্বদায় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। উহানের ঘটনার সময় আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তারাও করোনার প্রকোপকালে নানা সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা টিকা দিয়েও আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
দেশে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট হবে না জানিয়ে পরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সকলকে টিকা দিতে ২৬ কোটি ডোজ লাগবে। আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে তা সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার অনেক দামে ভ্যাকসিন কিনে বিনামূল্যে জনগণকে প্রদান করছে। ভ্যাকসিন করোনা প্রতিরোধের একটি উপায় মাত্র। টিকা নিলেও আমাদের সকলকে মাস্ক পড়াসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজের আর নিজের স্বজনদের নিরাপত্তায় আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা সতর্ক না হলে সরকার যতই হাসপাতাল, অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করুক না কোনো কিছুই কাজে আসবে না। করোনা একটি যোদ্ধ এবং আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা মোকাবেলা করতে হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ‘সরকার ভ্যাকসিনের প্রবাহ সুনিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। চীনের সাথে এই চুক্তি টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করে করোনা প্রতিরোধে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশের সারিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।’
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, চীনের রাষ্ট্রদূত মি লি জিমিং এবং ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির প্রমুখ।