পাবজি-ফ্রি ফায়ার গেম বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার ও লাইকির মতো বিপদজ্জনক অনলাইন গেম ও অ্যাপস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেন।
একইসঙ্গে সব অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে এসব গেম এবং অ্যাপস বন্ধের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে শুনানি বিষয়ে আদেশ এবং পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আজকের দিন ঠিক করেছিলেন হাইকোর্ট। বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিবের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই হাইকোর্টের একই বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের কপি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে বলা হয়।
এর আগে গত ২৪ জুন টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম ও লাইকিসহ এ ধরনের অনলাইনভিত্তিক অ্যাপ অপসারণ এবং লিংক বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব মোহাম্মদ কাউছার। মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ’ ফাউন্ডেশনের পক্ষে করা এ রিটে গেম এবং অ্যাপগুলোর ক্ষতিকারক দিক তুলে ধরেন তারা।
রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (ডিজি), বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, বিকাশ ও নগদকে বিবাদী করা হয়।
এর আগে গত ১৯ জুন এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ পাওয়ার পরে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রিট করেন এই আইনজীবী।
রিটে বলা হয়, পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো গেমে বাংলাদেশের যুবসমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। এসব গেম যুব সমাজকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
‘এছাড়া সম্প্রতি নারীপাচারের ঘটনা এবং বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে অর্থপাচারের ঘটনায়ও টিকটক, লাইকি ও বিগো লাইভের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং দেশের ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। এটা শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধেরও পরিপন্থী’, এতে বলা হয়।
দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম ও লাইকির মতো সকল প্রকার অনলাইন গেম ও অ্যাপ বন্ধে সরকারকে নির্দেশনা দিতে আর্জি জানানো হয়।
রিটে বলা হয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিধান অনুযায়ী এসব অবাঞ্ছিত ক্ষতিকর গেম এবং অ্যাপসকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং উপযোগী সাইবার পদ্ধতি সুনিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বিবাদীদের, যেটা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।