১৬ অগাস্ট, ২০২১ ১২:৫৪ পিএম

সাপে কাটার চিকিৎসায় আসছে ট্যাবলেট, শুরু হচ্ছে ট্রায়াল

সাপে কাটার চিকিৎসায় আসছে ট্যাবলেট, শুরু হচ্ছে ট্রায়াল
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস ডেস্ক: সাপে কাটার চিকিৎসায় নতুন আশার কথা শুনিয়েছেন একদল চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক। তারা বলছেন, এত দিনে ইনজেকশন দেওয়া হলেও সাপে কামড়ের চিকিৎসায় এখন থেকে ট্যাবলেট কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং এরই মধ্যে এর ট্রায়ালও শুরু হয়েছে। 

রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (এএসভি) দেওয়া পরও বিলম্ব হওয়ার কারণে রোগীকে বাঁচানো যায় না। কারণ গ্রামের প্রত্যন্ত-অঞ্চল থেকে হাসপাতালে পৌঁছানো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এতে বিষাক্ত সাপের বিষ যত তাড়াতাড়ি শরীরে মিশে যায়, ততই নিষ্ক্রিয় হতে থাকে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষকরা আশার আলো দেখছেন একটি ট্যাবলেটকে ঘিরে সেটি হলো-‘ভারেসপ্ল্যাডিব মিথাইল ট্যাবলেট।’

বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি, বিষাক্ত সাপে কাটার পর রোগীকে এই ট্যাবলেট খাওয়ালে দ্রুত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব। ফলে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দিয়ে চিকিৎসা শুরুর জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়। সেই ভারেসপ্ল্যাডিব মিথাইল ট্যাবলেটের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হচ্ছে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছে ওই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান পার্থপ্রতিম মূখোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘এটা হলো প্ল্যান্ট এলকোয়েল এইড, এই ওষুধের একটা সুবিধা হলো ওরাললি দেওয়া যায়। তাই এটাতে ক্ষতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাপের কামরের নতুন ওষুধ নিয়ে ভারতের চারটি হাসপাতালে গবেষণা হচ্ছে। দেশটির কয়েকটি রাজ্যে সাপের কামরে মৃতের সংখ্যা খুবেই উদ্বেগজনক। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতের পূর্বাঞ্চল রাজ্যে ২০২০ সালে সাপের কামরে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ‘এই ট্যাবলেট প্রয়োগ করে সুফল মিললে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাপের কামরে আক্রান্তদের মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। এই ট্যাবলেট প্রয়োগ করে সফলতার সংখ্যাটা বেশি হয়। তাহলে বুঝতে হবে এটা সাপের কামরের মৃত্যু ঠেকাতে কার্যকর।’

ভারতীয় চিকিৎসকরা আরও বলছেন, ‘ওরাল মেডিক্যাশন স্ট্রাইন ডাইমার ক্যাপরল ডিএমপিএইচ গ্রুপের ওষুধ বলা হচ্ছে।  এই গ্রুপের ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসক লাগবে না, যেকোনো স্বাস্থ্যকর্মী, নার্সরাও সাপের কামরের রোগী আসা মাত্র খাইয়ে দিতে পারবে। ওষুধ খাওয়ানোর পর বিভিন্ন ট্রায়ালে দেখা গেছে, সাপের কামর খাওয়া রোগী বাঁচানো সম্ভব। যদিও এটা সম্পূর্ণ ট্রায়ালের ফলাফল নয়।’

সম্প্রতি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভারতের ইথিক্যাল কমিটির বেঠক হয়, সেখানে এই ওষুধের ট্রায়াল শুরুর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে
প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

প্যারালাইজড রোগীদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও