গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক খবরের প্রতিবাদ
‘অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেবো’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকার সাভারের ইস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্স, ইস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে সাইক্লোট্রন ও পেট সিটি প্রকল্পের আওতায় তিনটি সাইক্লোট্রন যন্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্প্রতি ‘কাজে লাগবে না তবু ৮০ কোটির যন্ত্র কেনা হচ্ছে ১৪৫ কোটিতে’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠে সাইক্লোট্রন যন্ত্র কেনার যে অনিয়মের খবর প্রকাশ হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাইক্লোট্রন যন্ত্র কেনাকাটায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি ও জরিমানা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
তারা বলছেন, যে উপাদানকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞবৃন্দ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় মনে করে কাজ শুরু করেছেন। সেখানে একটা ‘অসম্পূর্ণ সত্য’ নির্ভর মনগড়া রায় দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের একটি গণমাধ্যমে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সকল দায়ী ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার আওতায় এনে সতর্কবার্তা প্রদান করা উচিত।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই খবরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। এছাড়া খবরে উল্লেখিত ভুল তথ্যগুলো চিহ্নিত করে ব্যাখ্যামূলক বিশ্লেষণ করেছেন।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ইস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এলাইড সায়েন্সেসের সহকারি অধ্যাপক ডা. আজমল কবির সরকারের সাথে কথা হয় মেডিভয়েসের, যিনি সাভারের ইস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্সের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, ‘কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, দেশে এখন দুটি সাইক্লোট্রন যন্ত্র আছে, যেগুলোর এফডিজি উৎপাদনের যে সক্ষমতা তার ৯৮ শতাংশই অব্যবহৃত থাকে। তার পরও আরো তিনটি সাইক্লোট্রন যন্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এই তথ্যটিকে ‘অসম্পূর্ণ সত্য’ বলছেন ডা. আজমল কবির সরকার।
তিনি বলেন, ‘রিপোর্টটি অনেক তথ্য জানাচ্ছে না, জানাতে পারছে না অথবা জানাতে চাইছে না। সেই তথ্য গুলো জানতে পারলে সহজেই বোঝা যাবে যে কেন এই রিপোর্টটি আসলে একটি ‘অসম্পূর্ণ সত্য।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে এফডিজি উৎপাদনকারী সাইক্লোট্রনটি কাজ শুরু করেছে বিগত এক বছর যাবত এবং এফডিজি ব্যবহারে সক্ষম এই আটখানা পেট-সিটি মেশিনের সবগুলো কেবল মাত্র ঢাকা জেলার মধ্যেই স্থাপিত। যার মধ্যে পাঁচটি মেশিন সরকারী অর্থাৎ তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে ক্যান্সারের পরীক্ষা করা যায়।’
‘সারাদেশে ক্যান্সার রোগীর দৈনিক কি পরিমাণ পেট-সিটি পরীক্ষা প্রয়োজন? ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর দুই লক্ষ লোকের ক্যান্সার ধরা পরে। ধরা যাক, কেবল মাত্র ক্যান্সারের শুরুতেই পেট-সিটি করা হবে। তো, এই আটটি মেশিনের বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে বছরে আট থেকে নয় হাজার লোকের পেট-সিটি স্ক্যান করা সম্ভব। তাহলে বাকি এক লক্ষ নব্বই হাজার ক্যান্সার রোগীর কি হবে?’ বলেন ডা. আজমল কবির সরকার।
ক্যান্সার নির্ণয়ে পেট-সিটি মেশিন বসানো যাবে এমন সরকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সারাদেশে বর্তমানে ১৫টি এবং এগুলোর মধ্যে রোগীর সার্ভিস রেকর্ড এর আলোকে চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহকে অগ্রাধিকার দিয়ে একসাথে কর্মপযোগী করা হচ্ছে।
ডা. আজমল কবির সরকার বলেন, ‘সাইক্লোট্রন যন্ত্রের সক্ষমতা কি আসলেই অব্যবহৃত? জনাব রিপোর্টার গণিতের পরাকাষ্ঠায় আরোহন করে পাঠককে দেখাচ্ছেন দুইটা সাইক্লোট্রনে উৎপাদিত এফডিজি দিয়েই দৈনিক চারহাজার রোগীর পরীক্ষা করা সম্ভব। পরিতাপের বিষয় উনি পদার্থবিজ্ঞান বোঝেন এমন কোনো লক্ষণ এই রিপোর্টে নেই। বরং, একজন জেষ্ঠ সচিব অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে যখন তাকে এইটা বুঝাতে চেয়েছেন, তবুও তিনি বুঝতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তাই, আবারও বলছি, বাস্তবতা হলো F-18-FDG তেজষ্ক্রিয় হবার কারণে তার ধর্মই হচ্ছে ১১০ মিনিট পর পর পরিমাণে অর্ধেক হয়ে যাওয়া। এদিকে একজন রোগীকে এটা প্রয়োগ করে স্ক্যান করাবার আগে যেমন একঘণ্টা অপেক্ষা করাতে হয়। তেমনি স্ক্যান করতেও আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কখনো আরোও বেশি সময় লাগে। তাই হাজার স্বদিচ্ছা থাকলেও দৈনিক আট কর্মঘণ্টায় একটা মেশিনে দশ থেকে পনেরো জনের বেশি স্ক্যান করানো সম্ভব নয়। তদুপরি বাস্তবতা হলো, যারা রোগীর স্ক্যান করছেন তাদের অকুপেশনাল রেডিয়েশন এক্সপোজার একটি নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে, যা কাজের পরিমাণ অর্থাৎ রোগীর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে ঝুঁকিপূর্ণ হতে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘ধরা যাক, মহাখালীতে একটি পেট-সিটি মেশিন রয়েছে এবং শাহবাগ যেখানে সরকারী সাইক্লোট্রনটি অবস্থিত সেখান থেকে সকাল আটটায় এফডিজিবাহী গাড়ি রওনা হলো। যানজটের এই রাজধানীতে একটি কর্মব্যাস্ত দিনে এই পরিবহনের জন্য কি পরিমাণ সময় লাগতে পারে? সেই সময়টুকু পার হলে মহাখালীতে কতটুকু এফডিজি পৌঁছবে? তারও এক কাঠি উপরে গিয়ে এই রিপোর্টে বলবার চেষ্টা করা হচ্ছে শাহবাগের উৎপাদন দিয়ে ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামের চাহিদা মেটানোর কথা। আসলে সেটাও সম্ভব হবে যদি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। এখানে প্রশ্ন থাকবে, আপনার কি মনে হয় যে, সরকারি পরিকল্পনা যারা করেন তারা সেই বিকল্প পদ্ধতির খরচ ও মুনাফা বিবেচনা না করেই ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামে আলাদা সাইক্লোট্রন বসানোর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন?
এদিকে, সকাল আটটায় এফডিজিবাহী গাড়িটিকে রওনা করানোর জন্য সাইক্লোট্রন অপারেটরের দলটি কিন্তু আরোও দুইঘন্টা আগে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।’
‘কাজেই, এফডিজি উৎপাদনের যে পরিমাণকে কালের কণ্ঠের রিপোর্টে চার হাজার রোগীর জন্য যথেষ্ট বলা হয়েছে, তা দিয়ে খোদ রাজধানীতে চল্লিশ থেকে সর্বোচ্চ একশ জন রোগীর স্ক্যান করা যেতে পারে। এক সাইক্লোট্রন এর উৎপাদন দিয়ে ১৫০-২০০ টি পেট-সিটি মেশিন চালাবার ঐকিক নিয়ম, দুঃখজনকভাবে পদার্থবিজ্ঞানের এই অধ্যায়ের জন্য প্রযোজ্য নয়’ বলে জানান ডা. আজমল কবির সরকার।
ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিকস, সাভারের ক্লিনিকাল পেটসিটি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সাভারে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্স (আইএনএমপি) গত তিন বছর যাবৎ পেট-সিটি স্ক্যানের মাধ্যেম ক্যান্সার রোগীর সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পেছনে যে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়, সেই ব্যাকগ্রাউন্ডের গল্প কি এই সাংবাদিক জানেন? নাকি চটকদার শিরোনামে খবর ছাপলেই সেটার কাটতি বেড়ে যায়?’
তিনি বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহ সাভারে আইএনএমপি-তে পেট-সিটি সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে শুধু এই সাইক্লোট্রনের জন্য। ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে এফডিজি ক্রয় করে সাভারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইউনাইটেড এর সাইক্লোট্রন মেশিনে প্রায়ই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। হঠাৎ করে কলাপ্স করতেছে। এফডিজি উৎপাদন করতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে অনেক রোগী দেশের দূর-দূরান্ত থেকে সাভারে এসে ফেরত যাচ্ছেন। রোগীদের ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।’
ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামে আলাদা সাইক্লোট্রন স্থাপিত হলে ঐ দুইটি জেলার প্রতিটির সাথে যে ছয়টি করে জেলা সংলগ্ন রয়েছে তাদের কেও পর্যায়ক্রমে পেট-সিটি পরীক্ষার সেবার আওতায় আনবার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেন, ‘সাইক্লোট্রন কি শুধুই বাড়তি খরচ? কালের কণ্ঠের রিপোর্টটি পড়ে এটাই মনে হয়েছে যে, সরকারের কয়েক কোটি টাকা সাশ্রয় করবার জন্যে নেত্রকোনা বা কক্সবাজার থেকে রোগী মাত্র দুই-একহাজার টাকা বাস ভাড়া খরচ করে ঢাকায় এসে পেট-সিটি পরীক্ষাটি করে গেলেই তো ভালো হয়। ’
ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্সের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অর্ণব পাল বলেন, রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি রোগীর জন্য এই ট্রেসার প্রয়োজন হয় আট মিলি কিউরি পরিমাণ। আর প্রতিটি যন্ত্র দিনে দুই ঘণ্টা হিসাবে দুই শিফটে চার ঘণ্টায় মোট ১৬ হাজার মাইক্রোকিউরি এফডিজি উৎপাদনে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে দেশের দুটি যন্ত্র দিয়ে দিনে ৩২ হাজার মাইক্রোকিউরি এফডিজি পদার্থ উৎপাদন করা যায়, যা দিয়ে দিনে চার হাজার রোগীর পেট-সিটি স্ক্যান করা সম্ভব।’ এখানে 32,000 uCi মানে হল, 32mCi সেই হিসেবে মাত্র চারজন রোগীর স্ক্যান সম্ভব! রিপোর্টার মহোদয় মিলি ও মাইক্রো কুরির হিসেবে গণ্ডগোল পাকিয়ে ফেলেছেন।
তিনি বলেন, পেট-স্ক্যানে ক্যান্সার ডায়গনোসিস করা হয় এফডিজি দিয়ে, যার মূল উপাদান Fluorine 18 আইসোটোপ , যার Half life 110 minute. অর্থাৎ উৎপাদনের দুইঘণ্টা পর এর কার্যকরিতা কমে অর্ধেক হয়ে যায়। সুতরাং, পেট- স্ক্যানের জন্য , এফডিজি উৎপাদন কেন্দ্র (সাইক্লোট্রন সেন্টার) স্ক্যানিং ফ্যাসিলিটির কাছাকাছি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্সের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জুয়েল হোসেন বলেন, ‘সাইক্লোট্রন শুধুমাত্র সার্ভিস ওরিয়েন্টেড যন্ত্র না, এটা পরমাণুর শক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সার সংশ্লিষ্ট গবেষণার অত্যাধুনিক যন্ত্র। কাজেই এই যন্ত্র ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে থাকা বাধ্যতামূলক সেরকম কিছু নয়। দ্বিতীয়ত, ‘দুই ঘন্টা হিসাবে দিনে দুই শিফটে এটাকে অপারেট করা যায়’ রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্যটি খুবই হাস্যকর কথা। কারণ একবার সাইক্লোট্রন অপারেট করতে গেলেই আগের দিন থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। আর অপারেশনের পর রেডিয়েশনের লেভেল গ্রাউন্ড স্টেটে আসতেই অনেক সময় লেগে যায়। এফডিজি উৎপাদনে রেডিয়েশন হ্যাজার্ড খুবই বেশি।’
চট্টগ্রামের ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এলাইড সায়েন্সেস এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু হায়াত মো. রকিবুল হক বলেন, ‘ওয়ান হাফ-লাইফ মানে কি, মাইক্রো আর মিলির মধ্যে তফাৎ কি, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ বা চট্রগ্রাম দূরত্বে এই আইসোটোপ পাঠানো বা বিতরণ ফিজিবল কিনা - এসব জ্ঞান তাদের হবে না। বরং প্রজেক্টটি নিয়ে আরো বিস্তৃত আলোচনা করে আরও দ্রুত কিভাবে প্রজেক্টটি সম্পন্ন করা যায়, আগামী ১০০ বৎসরের জন্য কর্মোপযোগী করে নিখুঁত ডিজাইনে কিভাবে তৈরি করা যায় এবং কত দ্রুততম সময়ে ক্যান্সার রোগীদের সেবা দেওয়া যায়, এসব বিষয়ে "তাগিদ' দিয়ে রিপোর্টটি লিখা ও ছাপানো যেতো।’
এছাড়াও, ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এলাইড সায়েন্সেস, বরিশালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাফিসা জাহান, ন্যাশনাল ইইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এলাইড সায়েন্সেস (নিনমাস) এর প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুল হাসান সহ সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে এই মিথ্যা, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ও সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সাইক্লোট্রন ও পেট-সিটি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্প পরিচালক ড. এম মঞ্জুর আহসান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি মিথ্যা তথ্যে ভরপুর। ‘জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে পেট-সিটি যন্ত্রই নেই’ মর্মে যে তথ্যটি রিপোর্টে এসেছে এটির বিপরীতে এটাও জানা প্রয়োজন যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের রোগীদের সেবা প্রদানের জন্যেই প্রতিষ্ঠানের ২০০ মিটার দুরত্বের মধ্যে একটি ভবন নির্মিত হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্বাবধানে সরকারি ভাবে পেট-সিটিসহ আরোও অনেক উচ্চ-প্রযুক্তির পরীক্ষা করবার সুবিধা অচিরেই উন্মুক্ত হতে চলেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় আট বছর আগে ৫০ কোটি টাকায় বিএসএমএমইউ সংলগ্ন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এলাইড সায়েন্সেস (নিনমাস) এ একটি সাইক্লোট্রন কিনেছিলাম। তিনটি সাইক্লোট্রনের জন্য এখন আমাদের বাজেট ১০৩ কোটি টাকা। কমপক্ষে পাঁচ বছরের ওয়্যারেন্টিসহ সমস্ত অতিরিক্ত এবং উপভোগযোগ্য আইটেম যারমধ্যে অন্যান্য সুবিধাদি রয়েছে। এছাড়া ওয়ারেন্টির পরে প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও পাঁচ বছর থাকবে।’
ড. এম মঞ্জুর আহসান বলেন, 'আমি গত বিশ বছর ধরে সাইক্লোট্রনের সাথে জড়িত ছিলাম। আমার কাছে সরকারীভাবে কেউ জিজ্ঞাসা করলে, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আছে। এরকম অপপ্রচার, মুখরোচক, বানোয়াট সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।'
সাইক্লোট্রন যন্ত্র কেনার প্রক্রিয়াটি শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে চলছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক ড. এম মঞ্জুর আহসান বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত অনুমোদিত কমিটির মাধ্যমে ১০০% স্বচ্ছতার সাথে কাজটি করছি। যদি কেউ এর মধ্যে পক্ষপাতিত্ব বা দূর্নীতি দেখাতে পারেন আমি স্বেচ্ছায় চাকুরি থেকে অব্যাহতি নেবো ও দূর্নীতি প্রমানিত হলে জরিমানাও দিব। এছাড়া সরকার অনুমতি দিলে যে কেউ এই সাইক্লোট্রন সংগ্রহের সাথে যুক্ত হতে পারে। আমি আনন্দের সাথে তার জন্য অপেক্ষা করছি।’