‘স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতায় স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং দেশেই উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি ভবনে ‘ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় বিএসএমএমইউ প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব নারীকে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য স্ক্রিনিং কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একইসঙ্গে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীরা যাতে উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা পান তাও নিশ্চিত করা হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৯ লাখ ৯ হাজার ৬ শত জন নারীর ভায়া টেস্ট করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক লাখ ১৯ হাজার ৪ শত ১৯ জন বা শতকরা হার ৪.১০ ভাগ ভায়া টেস্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০২০ সাল পর্যন্ত স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে ২৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯ শত ৯২ জনের সিবিই টেস্ট করা হয়েছে। এতে ৪০ হাজার ৫৫ জনের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। যা পরীক্ষার তুলনায় শতকরা ১.৬৭ ভাগ বলে সভায় জানানো হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে সভায় বলা হয়, দেশে ত্রিশোর্ধ্ব নারীর মধ্যে শতকরা দুই থেকে তিন ভাগ ক্যান্সারপূর্ব অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশে অন্তত ছয় লাখ ৫৫ হাজার থেকে নয় লাখ ৮২ হাজার ৫০০ জন নারী ক্যান্সারপূর্ব অথবা ক্যান্সার অবস্থায় আছেন। জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যান্সার কমানোর জন্য ক্যান্সার পূর্বাবস্থা অথবা ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের খুঁজে বের করে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় উপস্থিত স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর তার বক্তব্যে প্রকল্পের বিষয়ে দিকনির্দেশনা এবং প্রকল্পের কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসাসহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, পরিচালক (পরিকল্পনা উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী প্রমুখ।