০২ এপ্রিল, ২০২১ ১২:৩৯ পিএম

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ছবি: সহিদ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই বহুল আলোচিত এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত। সারাদেশের ৫৫টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা থাকলেও কেন্দ্রের বাইরে উপেক্ষিত ছিলো স্বাস্থ্যবিধি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

সকাল ১০টায় শুরু হয়ে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা চলে ১১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাথীদের প্রবেশ করানো হলেও কেন্দ্রর বাইরে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিলো না।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা পূর্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন পরীক্ষার্থীরা। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপ ও হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকরা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে কোনো সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিলো না। তাদের অনেককে কেন্দ্রের গেইটে ভিড় করতে দেখা যায়।

ঢাকার বাইরের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রের সামনে অভিভাবকদের গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই চিত্র অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতেও।

অভিভাবকরা জানায়, তাঁরা অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। পরীক্ষার্থীদের কাছে মোবাইল ফোন নেই, তাই তারা কেন্দ্রের সামনে ভিড় করেছেন।

এ সময় অভিভাবকদের ভিড় সামলাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা যায়।

এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘লোকেরা যদি একটু বিবেচক হতো তাহলে এই অবস্থা হতো না। বাচ্চাদের সাথে তাদের অভিভাবকরা এসেছেন তবে তাদের কিছুটা বিবেকও থাকা উচিত। পরীক্ষার হলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হয়েছে এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনা ছিল। এই পরীক্ষা নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। এরসঙ্গে পরবর্তী অনেক ধাপ রয়েছে। কিন্তু অভিভাবকরা এইভাবে হাট বসাবে তা কে জানতো।’

পুলিশ স্বাস্থ্যবিধি পালনে সতর্ক ছিলো। পুলিশ চাইলে বল প্রয়োগ করতে পারতো  কিন্তু এতে অপ্রীতিকর অবস্থা তৈরি হতে পারতো। এই অবস্থার জন্য দায়ী অভিভাবকদের অসচেতনতা বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। 

প্রসঙ্গত, সারাদেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৫৫টি ভেন্যুতে ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ ভর্তিচ্ছু। ঢাকার মধ্যে ১৫ ও বাইরের ৪০টি ভেন্যুতে ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা শাখা, শিক্ষা বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল শাখা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। 

১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জিপিএর ১০০ নম্বরসহ মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে জাতীয় মেধা তালিকা করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে মেডিকেল কলেজগুলোয়।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এমবিবিএস পরীক্ষা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক