২৭ মার্চ, ২০২১ ০৫:১৩ পিএম
স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব

প্রতি বছর প্রোস্টগ্রাজুয়েশনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ২ হাজার ডেন্টাল সার্জন

প্রতি বছর প্রোস্টগ্রাজুয়েশনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ২ হাজার ডেন্টাল সার্জন
অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির বুলবুল। ছবি: সাহিদ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন ডেন্টাল কলেজ থেকে পাস করা ডেন্টাল সার্জনরা প্রোস্টগ্রাজুয়েশন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ডেন্টালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির বুলবুল। সম্প্রতি মেডিভয়েসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বুলবুল বলেন, ১৯৬১ সালে ছয়জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। এ পেশার ষাট বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ এ সময়ে বেসিক সায়েন্সের পোস্টগ্রাজুয়েশন চালু করা যায়নি। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টগ্রাজুয়েশন যে ফ্যাকাল্টি আছে, সেখানে মাত্র চল্লিশ জন ডেন্টিস্টের পোস্টগ্রাজুয়েশন কোর্স করার সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, সময়ের ব্যবধানে ডেন্টালে দুই হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয় এবং প্রতি বছর দুই হাজার ডেন্টাল সার্জন বের হচ্ছে। তাদের সবার পোস্ট গ্রাজুয়েশনের সুযোগ নেই। শিক্ষক, চিকিৎসক ও পরীক্ষকের অভাব দূর করার লক্ষ্যে আমাদের ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন।

দেশে পয়ত্রিশটি ডেন্টাল কলেজ রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক সংকট আছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ বছরের কোর্স করা হয়েছে, তা সাজাতে গিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষক নিয়ে তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি। ডেন্টালের পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিক করা হলেও দুই বোর্ডের পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত পরীক্ষকের অভাব রয়েছে।’

ঢাকা ডেন্টালের অধ্যক্ষ বলেন, বাংলাদেশে বহু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এমনি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, লেদার বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও ভেটেরেনারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। অথচ ডেন্টালের পয়ত্রিশটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এসব বিবেচনায় ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল, যা পৃথিবীব্যাপী ব্যাপকভাবে সমাদৃত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সকল সেক্টরে উন্নতি হচ্ছে। বলতে দ্বিধা নাই, সরকারের স্বাস্থ্যবান্ধব কার্যক্রমের কল্যাণে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সরকারের ২০১৮ সালের ইশতেহারে রূপকল্প ২০২১ সাল ও ২০৪১ সালের কথা আছে। ডেল্টা প্ল্যান, এসডিজি ও ডাব্লিইএইচওর ওটাওয়া চার্টারের কথা আছে। এগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবান্ধব এ সরকার দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। এরই মধ্যে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি বিভাগগুলোতেও হবে।’

‘এমন প্রেক্ষাপটে মেডিলেক সায়েন্সের স্বতন্ত্র একটি পেশা—ডেন্টিস্ট্রির পেশার বিদ্যমান সমস্যার সমাধান ও এ শিক্ষার উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নাই’, যোগ করেন ডা. হুমায়ন বুলবুল।

তিনি আরও বলেন, ডেন্টাল শিক্ষায় পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সৃষ্টি না করে সবার জন্য সুস্বাস্থ্যের চিন্তা করলে তা পূর্ণতা পাবে না। তাই ডেন্টাল স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দেশে একটি ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় আশু প্রয়োজন। এক সময় এটা স্বপ্ন ছিল, এখন তা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই ডেন্টাল প্রফেশনের শিক্ষা, রেগুলেশন ও ডিসিপ্লিনগুলো সুসংহত করা এবং দেশের সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ডেন্টিস্ট্রির সকল স্পেশালিটির চিকিৎসা যেন জনগণ পায়, তার জন্য ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত