১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৮:১৮ পিএম

রেজিস্টার্ড নার্স ও পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজির মধ্যে দ্বন্দ্বের নেপথ্যে

রেজিস্টার্ড নার্স ও পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজির মধ্যে দ্বন্দ্বের নেপথ্যে
ছবি: সংগৃহীত

মুন্নাফ রশিদ: সমাধান হয়েও হচ্ছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে নিবন্ধন নিয়ে মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা সাড়ে ৪০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন একটি সিদ্ধান্তে এ দ্বন্দ্ব আবারও চাউর হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অধ্যয়নরত ‘পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্সের’ শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের অধীনে ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের আন্দোলনে নেমেছে নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্টার্ড নার্সসহ নার্সিং শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের লক্ষ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির ৫ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত সব নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও নিবন্ধন/অধিভুক্তিকরণের বিষয়ে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলে আবেদন করবে এবং নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সংক্রান্ত সব প্রশিক্ষণ কোর্স স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় পরিচালিত হবে। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন/নীতিমালা অনুসরণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, স্বীকৃতি সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সংক্রান্ত সব প্রশিক্ষণ কোর্স স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় পরিচালিত হওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে সম্মতি রয়েছে রেজিস্টার্ড নার্সদের।

তবে পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের নার্সিং কাউন্সিল থেকে নার্সিং সমমর্যাদার রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে তাদের। রেজিস্টার্ড নার্সদের দাবি, যদি পেশেন্ট কেয়ারের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন দিতেই হয়, তবে পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি হিসেবে তাদের রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে।

সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মাহমুদ তিহান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন তাদের বিরুদ্ধে— যারা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নিয়মনীতি না মেনেও নার্সিং রেজিস্ট্রেশন চাচ্ছে। নার্সিং কাউন্সিল প্রদত্ত সকল নিয়মনীতি মানার পর রেজিস্ট্রেশন চাইলে কোনও সমস্যা নাই।’

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সভাপতি ইসমত আরা মেডিভয়েসকে বলেন, যারা অযোগ্য ও অদক্ষ, যারা পড়ালেখা ঠিকম মতো করলেন না এবং ক্লিনিক্যাল প্র্যাক্টিস করতে পারে না তারা কিভাবে লাইসেন্স নিতে চান?

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দিয়েছেন, কারণ আমাদের মধ্যে সে কোয়ালিটি রয়েছে। কোয়ালিটির দিক থেকে বিবেচনা করলেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে একদম নগণ্য। কারণ আমাদের এবং তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তিনি বলেন, ভিশন টুয়েন্টি ওয়ানে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘কোয়ালিটি কেয়ার’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। কেননা তাদের দিয়ে কিভাবে কোয়ালিটি কেয়ার বাস্তবায়ন সম্ভব?

তবে নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সংক্রান্ত সব প্রশিক্ষণ কোর্স স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় পরিচালিত হওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটিকে সাধুবাদ জানান ইসমত আরা।

নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সংক্রান্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে গত ১৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নিজেদের দেওয়া শিক্ষাকে তুলনামূলক মানহীন বলে আখ্যা দেন।

ওই সভার কার্য বিবরণী থেকে জানা যায়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন নার্সিং শিক্ষার্থীদের সিলেবাস ও শিক্ষার মান, বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের তুলনায় বেশ ঘাটতি রয়েছে। অবশ্য এই শিখন ঘাটতি পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগও নিতে বলা হয়েছে। এমনকি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সুযোগ প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে বলা হয়।

ওই সভায় আবারও ওয়ান আমব্রেলা পদ্ধতি কার্যকর করতে বলা হয়। এর আগে ২০০৭ সালে ১৮ নভেম্বর দেশে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের চাহিদা নিরূপণ এবং তা পূরণে করণীয় নির্ধারণের জন্য গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রতিবেদনে ৩টি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সেখানে এই ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্ট বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছিল।

তখন বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্টের আওতায় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও সেবা শিক্ষাক্রম সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলী পরিচালনার জন্য প্রচলিত আইন সংশোধনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে আইন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ড পরিচালিত মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউটগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রণীত কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

আইন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ড পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটি কমিটির মাধ্যমে যৌথভাবে তদারকি (মনিটরিং) করতে হবে।

ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্টের বিষয়ে বিএনএ সভাপতি ইসমত আরা মেডিভয়েসকে বলেন, ওদেরকে যদি আমাদের দক্ষতার সাথে তুলনা করা হয় এবং সেক্ষেত্রে ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্ট বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়, তাহলে আমাদেরকে চিকিৎসক পদমর্যাদা দেওয়া হোক। কেননা ওয়ান আমব্রেলা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমতা আনতে হবে।

গত ১৭ জানুয়ারির ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বোর্ডের অধীনে নিবন্ধন নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে শর্ত পূরণ করে আবার নিবন্ধন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে মেডিকেল টেকনোলজিকে বাদ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়া ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি বোর্ডের অধীনে নিবন্ধন নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

এর আগে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের ১৬৭তম সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজির কোর্সসমূহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ পরিচালনা করবে। 

ওই সভাতেই সিদ্ধান্ত হয় কারিগরি বোর্ডের অধীনে ২০২০ সালে নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সসমূহে নতুন করে ভর্তি ও নিবন্ধন বন্ধ থাকবে। অবশ্য এরপর ওই বছরের ২৮ মে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের ১৭১তম সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালিত নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সমূহের ভর্তি প্রক্রিয়া যথারীতি বোর্ডের আওতায় হবে।

এছাড়া আইন অনুযায়ী নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজিসমূহ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় থাকা উচিত মর্মে জোরালো সিদ্ধান্ত হয়।

জানা যায়, ২০০৫ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মেডিকেল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা চালু করার পর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে এক মত হতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো। 

২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল, ফিজিওথেরাপি, ইন্টগ্রেটেড মেডিকেল, ফার্মাসি, নার্সিং, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, প্যাথলজি, অপটিকেল রিফ্রাকশনসহ অনুরূপ কোর্স) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কারিগরি বোর্ডের অধীনে চলবে। ওই সময় সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে এসব কোর্স পরিচালনার একটি নীতিমালাও করা হয়।

যদিও ২০২০ সালের ৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজিকে কারিগরি বোর্ডের অধীনে না রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

পরে একই বছরের ২০ ডিসেম্বর নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির ৫ম সভায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত সব নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও নিবন্ধন/অধিভুক্তিকরণের বিষয়ে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলে আবেদন করবে এবং নার্সিং ও মেডিকেল টেকনোলজি সংক্রান্ত সব প্রশিক্ষণ কোর্স স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন/নীতিমালা অনুসরণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন অনুযায়ী স্বীকৃতি সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এসব বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোরাদ হোসেন মোল্ল্যার সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

পরে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছি। বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থী ওই কোর্সে অধ্যায়নরত তাদেরকে আগের নিয়মেই সনদপত্র দেওয়া হবে। তবে নতুন শিক্ষা বর্ষে যাদেরকে ভর্তি নেওয়া হবে তাদেরকে নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী ভর্তি করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্টার সুরাইয়া বেগমকে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক