ডা. সওগাত এহসান

ডা. সওগাত এহসান

এমবিবিএস (ঢাবি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস পার্ট-২ (ইন্টার্নাল মেডিসিন)
সিইও, হোয়াইট কোট গ্যালারি।


৩১ জানুয়ারী, ২০২১ ০৯:৫৭ পিএম

দুয়ারে ৪২তম বিসিএস: শেষ সময়ের প্রস্তুতি

দুয়ারে ৪২তম বিসিএস: শেষ সময়ের প্রস্তুতি

শেষ সময়ে প্রস্ততির বিষয়ে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে, আমার আর নতুন করে কিছু পড়ার সুযোগ নেই। এতো দিন যা পড়েছি সেগুলোকে পুঁজি করেই আমাকে আগাতে হবে। জেনারেল থেকে যদি বলি:

বাংলা ব্যাকরণ

অবশ্যই ভালভাবে রিভিশন দিতে হবে। একটা জিনিস মনে রাখবেন অনিশ্চিত প্রশ্ন, যেমন: এক হাজার সমার্থক শব্দ পড়ার থেকে দুই পৃষ্ঠা সন্ধি, দুই পৃষ্ঠা সমাস পড়া এখানে বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বাংলা সাহিত্য

পাঁচটি প্রশ্ন আসবে। সেক্ষেত্রে পিএসসির রিটেন সিলেবাসে যে ১১ জন সাহিত্যিক সিলেবাসে আছেন, তাঁদের সম্পর্কে পড়তে হবে এবং অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য গুলোর নাম, লেখকের নাম এগুলোর ধারণা থাকতে হবে। আমি এক্ষেত্রে গত বছরগুলোর প্রশ্ন চোখ বুলিয়ে যাবার উপদেশ দিবো।

সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ)

ব্রিটিশ থেকে মুক্তিযুদ্ধকাল পুরোটুকু বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন। অন্যদিকে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও সংশোধনী ভালো করে পড়তে হবে। এছাড়া কৃষি ও শিল্প অংশগুলো আগের বছরের প্রশ্নের আলোকে পড়লে কমন পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বঙ্গবন্ধু, মুজিব বর্ষ নিয়ে পড়লে, আমার মনে হয় বেশ ভাল একটা নম্বর পাওয়া সম্ভব।
 
সাধারণ জ্ঞান (আন্তর্জাতিক) 

এখানে নম্বর তোলা অনেক কঠিন। আমি উপদেশ দিবো ভূ-রাজনৈতিক অংশটা এড়িয়ে যেতে। এখানে প্রায় একটা বইয়ের অর্ধেক আলোচনা। কিন্তু নম্বর আসে মাত্র চার। তাই আমি বলবো যারা স্বল্প সময়ে প্রস্ততি নিতে চান তারা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর নাম, জলবায়ু ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো যেমন, জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

ইংরেজি ব্যাকরণ

বুদ্ধিমানের কাজ হবে প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে পড়া। কারণ এটা নিয়মিত অনুশীলনের বিষয়। আগের বিসিএসের প্রশ্নগুলো অবশ্যই সলভ করতে হবে। একটু নিয়মিত থাকলেই এখান থেকে বেশ ভাল একটা নম্বর পাওয়া সম্ভব।

ইংরেজি সাহিত্য

সাহিত্যের বিভিন্ন সময় কাল থেকে একটা প্রশ্ন আসবেই। এরপর শেক্সপিয়ার, পিবি শেলি, জন কেটস, কলারিজ, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, ক্রিস্টোফার মার্লো ও ইয়েটস কমপক্ষে এগুলো দেখে যেতেই হবে। এবং আগের বিসিএসের প্রশ্ন দেখতে ভুলা যাবে না।

গণিত

ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের মতো গণিতও প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা অনুশীলন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। জ্যামিতি ও বীজগণিতে কম পড়ে বেশি মার্ক পাওয়া সম্ভব পার্টিগণিত থেকে। পার্টিগণিত থেকে লাভ ক্ষতি থেকে প্রশ্ন আসার প্রবণতা বেশি। সম্ভাবনা, বিন্যাস ও সামাবেশ থেকে প্রায় প্রতি বছর প্রশ্ন আসে।

মানসিক দক্ষতা

কিছু না পড়ে গেলেও একজন চিকিৎসক ১০ এর মধ্যে ছয় বা সাত তোলার ক্ষমতা রাখে বলে আমি মনে করি। তারপরও গাইড একবার দেখে গেলে ভালো। 

মেডিকেল পার্ট নিয়ে যদি কথা বলি। তাহলে বলতে হয়, যদি ৩৯তম এর প্রশ্নকে ফলো করে, তবে এবারও গেইম চেঞ্জিং রোল প্লে করবে মেডিসিন। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ডেভিডসন থেকে ৪০ এর বেশি প্রশ্ন এসেছে। এখানেই অনেকের ঘাটতি হয়েছিল। ফিজিওলজি ও এনাটমি থেকে যে সকল প্রশ্ন এসেছিল, যেমন মিয়োসিসে কয়টা কোষ তৈরি হয়? ডান ফুসফুসের লব কয়টা? টাইডাল ভলিয়ম কত? এ রকম যথেষ্ট সহজ প্রশ্ন এসেছিল। এনাটমি থেকে ২৫টি প্রশ্ন আসার কথা থাকলেও সর্বমোট ১৬টি এসেছিল। মাইক্রো থেকে যতগুলো প্রশ্ন এসেছিল সব মেডিসিনের বই থেকে। পদ্ধতিগত প্যাথলজির থেকে প্রশ্নগুলো মূলত মেডিসিনের প্রশ্ন হিসেবে এসেছে। প্যাথলজি থেকে মূলত পড়তে হবে জেনারেল প্যাথলজি, কারণ এখান থেকেই বেশি প্রশ্ন এসেছিল। 

সময় ভাগ করা

সবচেয়ে বড় পরীক্ষার কৌশল হলো সময় ব্যবস্থাপনা। আমার মনে হয়, যাদের এই অংশটাতে প্রস্তুতি ভালো, তার সেই অংশ দিয়ে পরীক্ষা শুরু করা উচিত। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চোখ না বুলিয়ে প্রথম থেকে পরীক্ষা দেওয়া উচিত। যেই উত্তর নিয়ে কনফিউশন আছে তা সাথে সাথে দাগ দিয়ে বাদ দিয়ে পরের প্রশ্নে চলে যেতে হবে। এভাবে অনেক সময় বাঁচানো সম্ভব।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ব্যাপারটার থেকে বড় যে জিনিসটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে, সেটা হলো শুধু উত্তীর্ণ হলেই কিন্তু হবে না। বেশ ভাল একটা স্কোরকে পুঁজি করে নিতে হবে। কারণ এই মার্কগুলো যোগ হবে। আর ভাইবাতে যেহেতু বোর্ড ভেদে গড় নম্বর পাঁচ বা ছয় নম্বর পার্থক্য হয়ে যায়। যেমন: কোন স্যার নম্বর দেওয়া শুরু করে ৬৫ থেকে, কোন বোর্ডে হয়তো স্যাররা ৬০ থেকে নম্বর দেওয়া পছন্দ করেন। তাই সেগুলোকে চিন্তায় রেখে আমি মনে করি, যেকোন প্রশ্ন পেপারে ১১০ একটা যথেষ্ট নিরাপদ স্কোর হতে পারে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত