২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:০২ পিএম

ওষুধ পরীক্ষায় দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন

ওষুধ পরীক্ষায় দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ল্যাব। ছবি: শাফিন খান

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব তৈরি হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, গত মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এর স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

আজ রোববার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে মহাখালীর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দুইটি ভ্যাকসিন ল্যাব পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে দুটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। একটি ওষুধের আর একটি ভ্যাকসিনের। আমাদের যে ওষুধের ল্যাব আছে সেটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদন দিয়েছে। সেই অনুমোদনের ফলে আমাদের ল্যাব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।’

দেশের কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত ওষুধের মান প্রতিনিয়ত পরীক্ষা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে মান বজায় রাখার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা করা হয়। আগামীতে এই ল্যাবরেটরিতে কোভিড ভ্যাকসিনও পরীক্ষা করা হবে।

এ সময় জাহিদ মালেক জানান, ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য জেলা হাসপাতালগুলোতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবহনের জন্য কোল্ড বক্স কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা অন্যান্য রোগের নরমাল ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একইসঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চালিয়ে যাবো। আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও টেকনেশিয়ানরা দক্ষতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রথম ধাপে স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যসহ ষাটোর্ধ্বদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।’

প্রথম ধাপে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনের তিন কোটি ভ্যাকসিন ধাপে ধাপে দিতে ছয় মাস লাগবে বলেও এ সময় জানান তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তৃক কোভ্যাক্সের ভ্যাকসিন আসবে মে ও জুন মাসে। ইতিমধ্যে তাদের দেওয়া সকল কাজগপত্র সই করে পাঠিয়েছি। তারা আমাদের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দিবে। এতে আমাদের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় চলে আসবে। তাদেরকে ভ্যাকসিন দিতে প্রায় এক বছরের বেশি সময় লাগবে। এটা নিয়ে আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। আমাদের পর্যাপ্ত জনবলও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ধরন দেখা দিয়েছে। সেটা বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা এয়ারপোর্টে বলে দিয়েছি যারা ইউরোপ থেকে আসবে তাদের আলাদা লাইনের মাধ্যমে বের করতে। পাশাপাশি যারা করোনার সার্টিফিকেট না নিয়ে আসবে তাদের তিনদিনের পরিবর্তে সাতদিনের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানসহ অন্যরা।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত