২১ নভেম্বর, ২০২০ ০৫:৫৬ পিএম

চিকিৎসকদের প্রতি সমআচরণ করা হচ্ছে না: ডা. আব্দুন নূর তুষার

চিকিৎসকদের প্রতি সমআচরণ করা হচ্ছে না: ডা. আব্দুন নূর তুষার

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকদের প্রতি সমআচরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটিজের (এফডিএসআর) উপদেষ্টা ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল নাগরিক টিভির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিইও) ডা. আব্দুন নূর তুষার। 

আজ শনিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংহতি সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

দেশের বর্তমান পদ্ধতি চিকিৎসকদের পদমর্যাদা অনুযায়ী মর্যাদা দিচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সিস্টেম, আমাদের কর্তৃপক্ষ, আমাদের ব্যবস্থা ডাক্তারদের প্রতি সমআচরণ করছে না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই আন্দোলন শুধুমাত্র বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের আন্দোলন নয়, বরং এটি দেশের সকল ডাক্তারদের আন্দোলন। ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি দেশের প্রথম ঘটনা নয়। আমরা এর আগে সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি, পুলিশের কনস্টেবল, এসআই পর্যায়ের কর্মকর্তা হয়ে একজন চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলেছেন।’

এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তখন আমরা প্রতিবাদ করিনি। কাউকে কথা বলতে দেখিনি। এরই পরিণতিতে আজকে অপরাধ বাড়তে বাড়তে আমাদের ঘরের মধ্যে প্রবেশে করেছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে বিনা অপরাধে, বিনা অযুহাতে, কেবলমাত্র সন্দেহের কারণে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘এই দাবি কোনো রাজনৈতিক দাবি না, এই দাবি কোনো পক্ষের দাবি না। এই দাবি পেশাগত একটি সম্প্রদায়ের স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করার দাবি।’

ডাক্তারদের প্রতি বছরের পর বছর যে নিগ্রহ, অত্যাচার, অপব্যবহার এবং অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে, সেটার প্রতিকারে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি দেওয়ার জোর দাবি জানান আব্দুন নূর তুষার। 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচানোসহ তাদের চিকিৎসা এবং একের পর এক স্বাস্থ্য বিভাগ যে কৃতিত্ব দাবি করে আসছে, সেই কৃতিত্ব চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ অর্জন করে দেয়নি। সুতরাং আমরা কোনো ভিক্ষা চাই না। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।’

প্রসঙ্গত, গত নয় নভেম্বর বেলা ১১টায় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালটির কর্মচারীদের মারধরে মারা যান পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন। পরদিন ১০ নভেম্বর সকালে নিহত এএসপি আনিসুল করিমের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডে ডা. মামুনের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো পর্যায়েই ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

  ঘটনা প্রবাহ : মাইন্ড এইড হাসপাতাল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি