২০ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:০৪ পিএম

ফের বিরল এক ভাইরাস শনাক্ত বলিভিয়ায়

ফের বিরল এক ভাইরাস শনাক্ত বলিভিয়ায়

মেডিভয়েস ডেস্ক: করোনাভাইরাসের করাল থাবার পাশাপাশি একের পর এক নয়া ভাইরাস নিয়ে ক্রমশ চিন্তার ভাঁজ পড়ছে চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে। এমন সময় ফের বলিভিয়ায় বিরল একটি ভাইরাস শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) টিম।

সম্প্রতি সিডিসির এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছ। নতুন এই ভাইরাসটির নাম ‘চ্যাপারে ভাইরাস’। 

সিডিসি বলছে, চ্যাপারে ভাইরাসটিও করোনাভাইরাসের মতোই একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তের মধ্যে। সুতরাং সংস্পর্শে এলেই বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চ্যাপারে ভাইরাস কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে অন্য কোনও ব্যক্তির সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলে ইবোলার মতো রক্তক্ষরণ জ্বর হতে পারে।

প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, এ ভাইরাসটি সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে গ্রামীণ বলিভিয়ার চ্যাপারে প্রদেশে ইবোলার মতো একটি রোগের একটি নিশ্চিত কেস পাওয়া যায় এবং এরপর রোগটি অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবারও ২০১৯ সালে, বলিভিয়াতে পাঁচ জন লোক আক্রান্ত হয়।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজের কাছাকাছি অঞ্চলে, ভাইরাসটি বডি ফ্লুইডের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছিল এবং তিন জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।

তবে আশার বাণী হচ্ছে, ২০২০ সালে ভাইরাসটির কোনো সচল প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি এবং ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনও প্রাদুর্ভাব ঘটেও সেটা মহামারী সৃষ্টি করবে না।

সিডিসির ভাষ্যমতে, ২০১৯ সালের পাঁচটি নিশ্চিত কেসের মধ্যে তিন জনই ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী। যারা আক্রান্ত রোগীর বডি ফ্লুইড এর মাধ্যমে আক্রান্ত হয়। এদের একজন ছিলেন মেডিকেল রেসিডেন্স। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে থেকে দুই জন মারা যায়। 

গবেষকরা চ্যাপারে ভাইরাসের জেনেটিক মেটারিয়ালের অংশকে আরএনএ হিসেবে সনাক্ত করেছে।

সিডিসির প্যাথলজিস্ট মারিয়া মোরালেজ বেতৌল্লে বলেন, আমরা ভাইরাসটিকে বিচ্ছিন্ন করেছি। আর পাঁচটা সাধারণ রোগের মতোই এটিও একটি। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ভাইরাসকে দ্রুত শনাক্ত করতে পেরে গবেষকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

জর্জেটাউন ইউনিভার্সিটির গবেষক কলিন কার্লসন বলেন, হেমোরেজিক ফিভার ইবোলা বা ইবোলার মতো রোগ। শ্বাসযন্ত্রের রোগ ফ্লু বা কোভিড-১৯ এর মতো বৃহৎ পরিসরে কদাচিৎ ছড়ায়। কারণ এই ধরণের হেমোরেজিক ফিভারের মতো রোগে সংক্রামণের পর খুব দ্রুত লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। এছাড়া সংক্রামণের জন্য বডি ফ্লুইডের সাথে সরাসরি সংস্পর্শ প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, এটির প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে নিয়ে যেতে পারে। কারণ বিপুল সংখ্যক স্বাস্থকর্মী আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে রোগটিতে আক্রান্ত হতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইনসাইডার

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
বিডিআরসিএস-আইএফআরসির জরিপ

হামে আক্রান্ত ৮৯ ভাগের চিকিৎসা ঋণ করে

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও