১৯ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:৩৫ পিএম

ডা. মামুন গ্রেফতার: মুখ খুললো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

ডা. মামুন গ্রেফতার: মুখ খুললো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্টার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতারের বিষয়ে অবশেষে মুখ খুললো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিপন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডা. মামুনের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ইনস্টিটিউটের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, গত ৯ নভেম্বর ঘটনার দিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপনকে তার ভগ্নিপতি ডা. রাশেদুল হাসান রিপন পুলিশের কিছু সদস্যসহ উত্তেজিত অবস্থায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। সে সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক রোগীর ভগ্নিপতির সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে তাঁকে জরুরী ভিত্তিতে শান্ত কার জন্য উত্তেজনা প্রশমনকারী ইনজেকশন প্রদানের নির্দেশ দেন এবং 'অবজারভেশনে' রাখেন।

এরপর সকাল ৯টার দিকে রোগীর ভগ্নিপতি এবং অন্যান্য স্বজনরা রোগীসহ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীনের সাথে দেখা করেন। রোগীর ভগ্নিপতি ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক একই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী হওয়ায় পূর্বপরিচিত ছিলেন।

পরে ডা. শাহানা পারভীন রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তাকে জরুরী ভিত্তিতে অত্র হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু তার ভগ্নিপতিসহ অন্যান্য অভিভাবক তাকে অত্র হাসপাতালে ভর্তি করতে অসম্মত হন, যা সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন তাদের আউটডোর টিকেটে লিপিবদ্ধ করেন। 

এর আগে ডা. শাহানা পারভীন আউটডোর টিকেটে প্রয়োজনীয় ঔষধ লিখে দেন এবং সরকারী সরবরাহকৃত ঔষধ সংগ্রহ করে রোগীর স্বজনের নিকট প্রদান করেন। এরপর রোগীর সাথে আসা পুলিশ সদস্যদের সিসিতে ‘আউট' লিখে স্বাক্ষর প্রদান করেন। 

তারপর রোগী আনিসুল করিম, তার বোন, ভগ্নিপতি এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তদন্ত প্রতিবেদনে এটা প্রতিয়মান হয় যে, ওই রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন পর্যায়েই ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপনের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালটির কর্মচারীদের মারধরে মারা যান সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন। তিনি ৩১তম বিসিএসে পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। পরদিন ১০ নভেম্বর সকালে নিহত এএসপি আনিসুল করিমের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ওই দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুল করিম নিহতের ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনও অনুমোদন নেই, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কোনও অনুমোদন নেই, চিকিৎসক নেই।

  ঘটনা প্রবাহ : মাইন্ড এইড হাসপাতাল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি