১৭ নভেম্বর, ২০২০ ০২:৫২ পিএম

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেফতার

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেফতার

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর মাইন্ড এইড হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম হত্যাকাণ্ড মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার সকালে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, এর আগে এ মামলায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম বলেছে। তার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে মামুনকে গেপ্তার করা হয়।

এই চিকিৎসককে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানান হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, এর আগে গ্রেপ্তারদের মধ্যে যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, তাদের দেওয়া তথ্যে আব্দুল আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পরামর্শেই দালালের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

উপ কমিশনার হারুন বলেন, আনিসুল করিম চিকিৎসা নিতে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে) গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ডা. মামুনের পরামর্শে তাকে আদাবরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ডাক্তার মামুন মাইন্ড এইড হাসপাতাল ছাড়াও টাঙ্গাইলের একটি এবং ঢাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল রোগী দেখেন।

এক প্রশ্নের জবাবে উপ কমিশনার হারুন বলেন, মাইন্ড এইডে কোনো রোগী পাঠালে ৩০ শতাংশ কমিশন পেত ওই ডাক্তার।

মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামিকে পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছিল। ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে মোট ১৩ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হল। 

উপ কমিশনার হারুন বলেন, মামলার এজাহারে মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার মামুনের নাম নেই। তবে মামলায় আরেকজন ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম আছে, তিনিসহ পলাতক ৩ আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালটির কর্মচারীদের মারধরে মারা যান সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন। তিনি ৩১তম বিসিএসে পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। পরদিন ১০ নভেম্বর সকালে নিহত এএসপি আনিসুল করিমের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ওই দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুল করিম নিহতের ঘটনাটি একটি হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনও অনুমোদন নেই, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কোনও অনুমোদন নেই, চিকিৎসক নেই।

  ঘটনা প্রবাহ : মাইন্ড এইড হাসপাতাল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি